অনুপ্রেরণামূলক চিন্তা তরুণদের মধ্যে ছড়িয়ে দিলেন তারকারা

news paper

তানভীর সানি

প্রকাশিত: ১৭-১০-২০২৩ বিকাল ৫:৪৩

33Views

অনুপ্রেরণামূলক চিন্তা সবার মধ্যে ছড়িয়ে দিতে সম্প্রতি টেডএক্সডিপিএসএসটিএসস্কুল ২০২৩ এর আয়োজন করে। সেখানে খ্যাতিমান মানুষদের জীবনের চড়াই-উৎরাই, প্রেরণা, প্রতিবন্ধকতা আর সাফল্যের গল্পগুলো শুনতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকরা একত্রিত হন। ‘টেড’-এর মতো অভিজ্ঞতা মানুষের মাঝে, বিশেষ করে তরুণদের মাঝে ছড়িয়ে দেয়ার লক্ষ্যে স্থানীয়ভাবে আয়োজিত অনুষ্ঠান টেডএক্স। ‘আনকভারিং আনসারটেইনিটিজ’ প্রতিপাদ্যে ডিপিএস এসটিএস স্কুল ঢাকা এর আয়োজন করে। স্কুলটির সিনিয়র ক্যাম্পাস অডিটোরিয়ামে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ডিপিএস এসটিএস স্কুল ঢাকা গত দুই বছর ধরে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে যাচ্ছে। যোগাযোগ বৃদ্ধি, নেটওয়ার্ক তৈরি ও নিজেদের দক্ষ করে তোলার লক্ষ্যে স্কুলটি এবারও এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। একদিনের এই অনুষ্ঠানে ৪০০’র বেশি শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষাবিদ অংশ নেন। আয়োজনে বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হোয়াট এ শো’র ক্রিয়েটর ও হোস্ট, কনটেন্ট নির্মাতা ও ব্র্যান্ড স্ট্র্যাটেজিস্ট রাফসান সাবাব খান; সংগীতশিল্পী ও গীতিকার শীতম আহমেদ; ডকুমেন্টরি ফটোগ্রাফার জিএমবি আকাশ; অভিনেত্রী, মডেল ও উন্নয়নকর্মী রাফিয়াত রশিদ মিথিলা; অভিনেতা সুমন পাটোয়ারী; ইনফ্লুয়েন্সার ও উন্নয়নকর্মী রাবা খান; টিভি উপস্থাপিকা, রানওয়ে ডিরেক্টর ও ফ্যাশন স্টাইলিস্ট আজরা মাহমুদ; শিক্ষাবিদ ও ফাইরুজ এডুকেশন সার্ভিসেসের প্রতিষ্ঠাতা ফাইরুজ খান এবং শিল্পী ও কনটেন্ট নির্মাতা মাসুদা খান। অনুষ্ঠানে বক্তারা তাদের গুরুত্বপূর্ণ মতামত, অভিজ্ঞতা, কঠিন ও বাস্তব সময়ের অভিজ্ঞতা থেকে শুরু করে সাফল্যের গল্প তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে রাফিয়াথ রশিদ মিথিলা বলেন, “আমি অনেকবার অনিশ্চয়তার সম্মুখীন হয়েছি। কাঙ্খিত বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য আমাদের কাছে পর্যাপ্ত অর্থ ছিল না। আমি যে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলাম সেখানে আমি অজানা বন্ধুদের খুঁজে পেয়েছি। অবশেষে আমি চ্যালেঞ্জ জিতেছি। আবার, যখন আমার জীবনে বিচ্ছেদ এসেছে, তখন আমাকে আমার একটি বাচ্চাসহ বাবা-মায়ের কাছে ফিরতে হয়েছিল। আমি দ্বিতীয় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছি এবং আমার মেয়ের উন্নত লালন-পালন নিশ্চিত করার জন্য কাজ শুরু করেছি,”। মিথিলা আরও বলেন, একজন আন্তর্জাতিক উন্নয়নকর্মী হিসেবে তিনি আফ্রিকার প্রত্যন্ত কোণে গিয়েছিলেন। যেখানে তিনি মানুষকে ক্ষুধার্ত দেখেছেন। সেখানে শিশুদের কষ্ট পেতে দেখেছেন এবং উন্নত জীবনের জন্য তাদের লড়তে দেখেছেন। ডকুমেন্টরি ফটোগ্রাফার জিএমবি আকাশ তার আলোকচিত্রের বিষয়ে বলেন, “মানুষের সাথে অর্থবহ সম্পর্ক তৈরি করতে আমি তাদের সাথে মাসের পর মাস সময় কাটাই। পারস্পরিক আস্থার জায়গা তৈরি হওয়ার পর আমি ছবি তুলি। যাদের ছবি তুলি তাদের প্রত্যেকের সাথে আমি যোগাযোগ রাখি। এই প্রত্যেকটি মানুষেরই নিজস্ব গল্প রয়েছে, এরমধ্যে কিছু গল্প আমাদের মনকে নাড়া দেয়, কিছু গল্প আবার প্রেরণা জোগায়। আমার এই প্রয়াস সুবিধাবঞ্চিত ও কম ভাগ্যবান মানুষদের সহায়তায় কাজে লাগছে। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে যাদের আসলেই সাহায্য প্রয়োজন তাদের সহায়তায় হাত বাড়িয়ে দেওয়া সম্ভব বলে আমি মনে করি।” বক্তাদের অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্যের পাশাপাশি, অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উপস্থাপনায় আকর্ষণীয় পারফরমেন্স ও পুরস্কার বিতরণীর আয়োজন করা হয়। সম্মানিত বক্তাদের অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্যের পাশাপাশি, অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উপস্থাপনায় আকর্ষণীয় পারফরমেন্স ও পুরস্কার বিতরণীর আয়োজন করা হয়।


আরও পড়ুন