প্রতি হিংসার শিকার স্কুল নৈশ প্রহরীর বছর ধরে বেতন ভাতা বন্ধ

news paper

সোহানুল হক পারভেজ, তানোর

প্রকাশিত: ১৯-৯-২০২৩ দুপুর ৩:৫৪

43Views

রাজশাহীর তানোর পৌর এলাকার আমশো মথুরাপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নৈশ প্রহরী মাহবুর মোল্লা প্রতিহিংসার শিকার হয়ে তার বিগত এক বছর ধরে ডিউটি ও বেতন ভাতা বন্ধ করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে । ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক আঙ্গুরা বেগম তার আত্মীয় কে চাকুরী দেওয়ার জন্য মাহবুরকে বিভিন্ন অপবাদ দিয়ে বিগত প্রায় এক বছর ধরে কোন কিছুই করতে দেননি।

বেতন ভাতা ও ডিউটি করার জন্য চলতি বছরের ৩০ আগষ্ট স্কুল কমিটির সভাপতি ও স্থানীয় কাউন্সিলর এবং অর্ধশতাধিক অভিভাবকের সাক্ষর সংবলিত লিখিত আবেদন করেন জেলা শিক্ষা অফিসার বরাবর। আবেদনের অনুলিপি স্থানীয় সংসদ, সচিব প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, পরিচালক রাজশাহী শিক্ষা অফিস এবং উপজেলা নির্বাহীর বরাবর দেওয়া হয়েছে।

কিন্তু বেতন ভাতা তো দূরে থাক উল্টো প্রধান শিক্ষকের যোগসাজশে তার নিয়োগ বাতিলের জন্য পত্র প্রেরণ করা হয়েছে। এতে করে নৈশ প্রহরীর পরিবারে চরম হতাশা বিরাজ করছে। সেই সাথে নিয়োগ প্রক্রিয়া ও বেতন ভাতা দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। ফলে একজন এতিম অসহায় নৈশ প্রহরী চাকুরী পুনর্বহালসহ বেতন ভাতা না হলে আত্মহত্যা ছাড়া উপায় নেই, কারন চাকুরিটাই তার পরিবারের একমাত্র উপার্জনের উপায়।

জানা গেছে, বিগত প্রায় এক বছরের আগ থেকে তানোর পৌর এলাকার মথুরাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নৈশ প্রহরী মাহবুর মোল্লা প্রধান শিক্ষক আঙ্গুরা বেগমের প্রতি হিংসার শিকার। কারন মাহবুরকে চাকুরীচ্যুত করতে পারলে অন্য কাউকে নিয়োগ দিয়ে মোটা টাকার বানিজ্য করা যাবে।

স্থানীয়রা জানান, মাহবুর নৈশ প্রহরীর চাকুরী করেন। সে যদি কোন অন্যায় করে থাকে তাহলে স্কুল কমিটি রয়েছে, উপজেলা প্রশাসন রয়েছে, তারাই তো সমাধান করতে পারত। আবেদনে উল্লেখ, মাহাবুর মোল্লা তার উপর অর্পিত দায়িত্ব সঠিক ভাবে পালন করে আসছেন। প্রধান শিক্ষক নিজের আত্মীয় কে ওই পদে চাকুরী দিতে বিভিন্ন অজুহাতে মানসিক অত্যাচার নির্যাতন করিয়া চাকুরীচ্যুত করার বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করেছেন।

তার বিরুদ্ধে প্রধান শিক্ষক উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের নিকট মিথ্যা প্রতারনা মুলুক অভিযোগ দায়ের করে বেতন ভাতা বন্ধ করে দিয়েছেন। এছাড়াও তার হাজিরা খাতা পর্যন্ত গোপন রাখে। প্রতিবাদ করলেই অভিযোগ। অথচ জেলা শিক্ষা অফিসার বেতন ভাতা দিতে উপজেলা শিক্ষা অফিসার কে নির্দেশ দেন ও স্থানীয় সংসদ এবং উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সুপারিশ করার পরও রহস্য জনক কারনে উপজেলা শিক্ষা অফিসার বেতন ভাতা চালু করেন নি।

এদিকে চলতি মাসের ৫ সেপ্টেম্বর প্রধান শিক্ষক স্বাক্ষরিত নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল প্রসঙ্গে পত্র দেওয়া হয় তা হুবহু তুলে ধরা হল। মসপ্রবি/ তান/ রাজ- ৫৯ নম্বর স্মারকে এবং ৯৮৫ নম্বর স্মারক তাং ২৩/৫/২০২৩ইং ও উশিঅ/ তান/রাজ ৩৭৭ স্মারক তাং ৯/৭/২০২৩ ইং। বিষয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরি কাম প্রহরী পদে আউটসোর্সিং এর মাধ্যমে জনবল নিয়োগের নীতিমালা অনুযায়ী আপনার সম্পাদিত চুক্তিপত্র বাতিল/ কর্মে অবসান প্রসঙ্গে।

উপযুক্ত বিষয় মোতাবেক আপনাকে জানানো যাচ্ছে যে, আপনি দপ্তর কাম প্রহরী পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের চুক্তিপত্র সম্পাদন / সাক্ষর করে বিগত ৯/৬/২০১৩ ইং তারিখে ওই পদে চুক্তিভুক্ত যোগদান করেন।

পরবর্তীতে উক্ত চুক্তির মেয়াদ ১/৬/২০২২ সাল হতে তিন বছরের জন্য নবায়ন করা হয়েছে। কিন্তু আপনি কর্মে যোগদানের পর হতে বিভিন্ন সময় শৃঙ্খলা ভঙ্গ, দায়িত্বে অবহেলা,অসদাচরন,মাদক সেবন,প্রতিপক্ষকে অমান্য, উশৃংখলা ইত্যাদি অভিযোগে জড়িত থাকায় গত ১৪/৮/২০২৩ ইং তারিখে ন্যায় বিচারের স্বার্থে সুনির্দিষ্ট অভিযোগে ০৭(সাত) দিনের মধ্যে কারন দর্শানো হয়। কারন দর্শানোর প্রেক্ষিতে আপনি যে জবাব প্রদান করেছেন তা আদৌ বিবেচনাযোগ্য নহে।

এমতাবস্থায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরী কাম প্রহরী পদে আউটসোর্সিং এর মাধ্যমে জনবল নিয়োগের নীতিমালা অনুযায়ী আপনার চুক্তিনামা বাতিল /কর্মে অবসান ঘটানো হলো ইহা অবিলম্বে কার্যকর হবে। এর অনুলিপি দেওয়া হয়েছে,
বিভাগীয় উপপরিচালক, প্রাথমিক শিক্ষা, রাজশাহী বিভাগ, রাজশাহী। চেয়ারম্যান উপজেলা পরিষদ, তানোরউপজেলা নির্বাহী অফিসার, তানোর, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, রাজশাহী। উপজেলা শিক্ষা অফিসার, তানোর। সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার ( সংশ্লিষ্ট ক্লাস্টার) তানোর। সভাপতি ( এস,এম,সি) ভুক্তভোগী নৈশ প্রহরী মাহবুর মোল্লা বলেন, আমি প্রধান শিক্ষকের প্রতিহিংসার শিকার। যে সব অপবাদ দেওয়া হয়েছে সবকিছুই মিথ্যা। যদি মিথ্যা না হত তাহলে স্কুল কমিটির সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবং এমপি আমার আবেদনে সুপারিশ করত না।

আমি শোকজের জবাব দেওয়ার পরো আমার সাথে এমন অমানবিক আচরণ করছেন।আমি একজন এতিম, আমার পিতা মাতা কেউ নেউ, আমি অসহায় বলেই সবার সুপারিশে চাকুরী পায়। আমার পরিবারে চারজন সদস্য আছে। তারা আমার উপর নির্ভরশীল। বিগত এক বছরের অধিক সময় ধরে বেতন ভাতা না পেয়ে অর্ধাহারে অনাহারে দিন যাপন করছি।

আমি প্রধান শিক্ষক সহ অন্য শিক্ষক দের হুকুমের গোলাম, তাদের সাথে আমি কেন বিবাদ করব। আমি তো শিক্ষকতা করবনা যে, তাদের সাথে দ্বন্দ্ব করব। আমি অনুরোধ করে বলব ভূলের উর্ধ্বে কেউ না আমার ভূল হয়ে থাকলে শাস্তি আছে, তাই বলে রিজিক কেন বন্ধ করে দিবে। আমি যদি খারাপ হতাম তাহলে অর্ধশতাধিকের বেশি অভিভাবক আমার আবেদনে স্বাক্ষর করত না। আমি খেয়ে না খেয়ে পরিবার নিয়ে চরম মানবেতর জীবন যাপন করছি।

প্রধান শিক্ষক আঙ্গুরা বেগম বলেন, তার কৃতকর্মের বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছিল। কর্তৃপক্ষ যেভাবে বলেছেন আমি সেভাবে কাজ করছি বলে তিনি দায় সারেন । স্কুল কমিটির সভাপতি বকুল হোসেন বলেন, একজন নৈশ প্রহরীর সাথে এসব করা সঠিক কাজ না। নিজেদের মধ্যে ভুলবোঝাবুঝি হলে সমাধান তো আছেই। সেটা না করে চাকুরীচ্যুত করাটা একেবারেই অমানবিক ছাড়া কিছুই না।

উপজেলা শিক্ষা অফিসার মনিরা বেগম বলেন, জেলা শিক্ষা অফিসার যেভাবে বলেছেন সেভাবেই কাজ হয়েছে বলে দায় সারেন।


আরও পড়ুন