ঝিনাইদহ পুলিশ সুপারের বদলিতে সন্ত্রাসী, অপরাধী ও মাদক কারবারিদের মধ্যে স্বস্তি

news paper

শামীমুল ইসলাম শামীম, ঝিনাইদহ

প্রকাশিত: ১৮-৭-২০২৩ বিকাল ৫:১৬

89Views

ঝিনাইদহ পুলিশ সুপার আশিকুর রহমান বিপিএম,পিপিএম(বার) ঝিনাইদহে যোগদান করেই মাদক,জঙ্গি ,সন্ত্রাস ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেন।পুলিশ সুপার আসার পর ঝিনাইদহে কমেছে চুরি, ছিনতাই, মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদসহ অপরাধ মুলক কর্মকান্ড। সেই সাথে ঝিনাইদহ জেলাতে বেড়েছে পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা। এখন ঝিনাইদহের শৈলকুপা থানাসহ সবকটি থানাতেই মিথ্যা মামলা হয়রানি নেই। আগে ভেরিফিকেশনের সময় পুলিশ যেভাবে টাকার জন্য হয়রানি করতো সেটি এখন আর হয় না।
পুলিশ সুপার আশিকুর রহমান এর যেই ঘোষণা সেই কাজ। জেলাব্যাপী হানাহানি ও তড়িৎ গতিতে আসামী গ্রেপ্তারে নজির গড়েন তিনি। ক্লুলেস মামলার সাফল্য আসে তার সময়ে। জেলাব্যাপী দাপিয়ে বেড়ানো সুদে মহাজনদের গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে তিনি আতংক সৃষ্টি করেন।
ঝিনাইদহে যে কেউ বিনামূল্যে সেই নাগরিক সেবা সম্মানের সাথে পাচ্ছে। বিশেষ করে ঝিনাইদহ সদর থানা পুলিশের কার্যক্রম দেখলেই বুঝতে পারবেন এটাই হতো প্রকৃত পুলিশিং। মানুষ এখন আর থানা পুলিশকে মাস্তান গুন্ডা বা এধরণের ভিতিকর কিছু বলে মনে করে না। সেবা পেতে বুক ভরা সাহস নিয়ে থানার আশ্রয় নিতে পারেন। এ ধারা অব্যাহত থাকলে পুলিশের প্রতি মানুষের আস্থা আরও বাড়বে।ঝিনাইদহ সদও থানাসহ বর্তমানে কোনো থানায় পুলিশ ক্লিয়ারেন্স, জিডি, ভেরিফিকেশন, মামলা দায়ের করতে টাকা লাগছে না।
হয়রানীমূলক মামলা রোধে মানবিক পুলিশ সুপার আশিকুর রহমানের নির্দেশনায় সাধারণ মানুষ হাফ ছেড়ে বাঁচে। বৃত্তের বাইরে গিয়ে তার এই মানবসেবা মানুষের মাঝে আস্থা তৈরি হয়েছিল। ২০২২ সালের আগস্ট-সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ঝিনাইদহের শৈলকূপায় সামাজিক সন্ত্রাস ও আধিপত্য বিস্তারের লড়ায়ে প্রাণহানির খবর মানুষের কাছে ছিল স্বাভাবিক ঘটনা। পান থেকে চুন খসলেই ঢাল-সড়কি নিয়ে প্রতিপক্ষের উপরে হামলা করা যেন একটি ট্রেন্ড তৈরি হয়ে পড়েছিল। পুলিশের পক্ষ থেকে শান্তি সমাবেশ, আইন-শৃঙ্খলা সমাবেশ করেও প্রতিকার হচ্ছিল না। 
মানবিক পুলিশ সুপার আশিকুর রহমান এর জন্যই এ জেলার মানুষের কাছে আরেক দফায় পুলিশের প্রতি আস্থা সৃষ্টি করতে সক্ষম হয় জেলা পুলিশ। তিনি বারবার প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছেন অন্যায়কারী সে যেই হউক ছাড় দেওয়া হবে না। এই পুলিশ কর্মকর্তা শুধু ঝিনাইদহ পৌরসভা,সদর উপজেলা শহরেই নয়,ছয়টি থানা এলাকার ইউনিয়ন, গ্রামের মানুষের কাছেও তিনি সমান প্রিয় ব্যক্তিত্ব।বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব,সমাজকর্মী ও আইনজীবি,জেলা আওয়ামীলীগের দপ্তর সম্পাদক ও সরকারি কৌশুলি জি.পি অ্যাড. বিকাশ কুমার ঘোষ বলেন, ‘এখন পুলিশের ওপর মানুষের একটা আস্থা বিশ্বাসও ফিরে এসেছে, যেটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
২০২২ সালের ২২ আগস্ট ঝিনাইদহে পুলিশ সুপার হিসাবে যোগদান করেন মোহম্মদ আশিকুর রহমান বিপিএম, পিপিএম (বার)। তিনি যোগদানের পরেই শৈলকূপায় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের একটি মন্দিরে হামলার ঘটনায় তিনি দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে সক্ষম হন। শৈলকূপার সামাজিক সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে শুরু করেন। উপজেলায় পুলিশের তৎপরতায় কমে এসেছে সামাজিক দ্বন্দ্বের জেরে সংঘর্ষ। প্রায় ১১ মাস সামাজিক দ্বন্দ্বের জেরে এই উপজেলায় ঘটেনি কোন প্রাণহানি। এটা যেন উপজেলার মানুষের কাছেই আশ্চর্য্য মনে হয়।
পুলিশ সুপার আশিকুর রহমান অত্যন্ত সততার সাথে রিক্রুটিং কনস্টেবল পদে নিয়োগ সম্পন্ন করেও প্রশংসা কুড়িয়েছেন। এদিকে, ২০২১ সালের ১৩ জানুয়ারি শৈলকুপা পৌর এলাকার কবিরপুর এলাকার কাউন্সিলর প্রার্থী শওকত হোসেনের ভাই লিয়াকত হোসেন বল্টুকে কুপিয়ে হত্যা করা হয় আধিপত্য বিস্তারের জেরে।
২০২২ সালের ৩০ জুলাই পুরাতন বাখরবা গ্রামের ইবাদত শেখের ছেলে জানিক শেখ প্রতিপক্ষের হামলায় গুরুতর আহত হয় তাকে কুষ্টিয়া মেডিকেলে ভর্তি করা হলে ৩১ জুলাই ভোরে তার মৃত্যু হয়। ২০২২ সালের ২১ জানুয়ারি উপজেলার সারুটিয়া গ্রামের দবির উদ্দিন শেখের ছেলে মেহেদী হাসান স্বপন (২৫) পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ২০২০ সালের ১৭ মে উপজেলার দিগনগর ইউনিয়নের হড়লা গ্রামের নজির জেয়ার্দ্দার (৫০) কে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। ২০২২ সালের ৮ জানুয়ারি বগুড়া ইউনিয়নের বড়বাড়ি গ্রামে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় কল্লোল খন্দকার(৩৮) নামে একজনকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ২০২২ সালের ৮ আগষ্ট উপজেলার শেখড়া গ্রামে আধিপত্য বিস্তারের জেরে ৪০টি বাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয় এই ঘটনায় আহত হয় ১০ জন।
২০২২ সালের ২৯ মে নিত্যানন্দপুর ইউনিয়নের বুড়ামারা গ্রামে ২০টি বাড়ি ভাঙচুর করা হয় লুটপাট করা হয়। ২০২২ সালের ৩১ জুলাই রাতে উপজেলার কামারিয়া গ্রামের ৬টি বাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। ২০২২ সালের ১৫ মে দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার হয় নিত্যানন্দপুর ইউনিয়নের বিবাদমান ৩২ জন।
এদিকে ২০২২ সালের শেষের দিক থেকে ঝিনাইদহ আদালতে শৈলকূপার বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর মামলায় একের পর এক রায় ঘোষণা হতে থাকে। ২০২৩ সালের ১৫ মার্চ তিন ভাগ্নে-ভাতিজাকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় একজনের মৃত্যুদন্ড, ২০২২ সালের ১৭ আগস্ট শিক্ষক হত্যা মামলায় ৩ জনের মৃত্যুদন্ড এরকম রায় আসতে শুরু করে। পুলিশ উপজেলায় সামাজিক দাঙ্গা সংঘটিত হওয়ার সুযোগ না দেয়াই ধীরে ধীরে শান্ত হচ্ছিল শৈলকূপা। মাত্র ১১ মাসের মধ্যে পুলিশ সুপারের বদলী অনেকেই বাঁকা চোখে দেখছেন। ঝিনাইদহের কয়েকজন প্রভাবশালী এমপি এই বদলীর পেছনে কলকাঠি নেড়েছেন বলে শোনা যাচ্ছে।

শৈলকূপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আশিকুর রহমানের সরাসরি তদারকিতে শৈলকুপা উপজেলায় আমরা আইন-শৃঙ্খলার ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। আগের থেকে অনেক শান্ত হয়েছে। গত ১১ মাসে পারিবারিক কারণ ও দুই-একটি বিছিন্ন ঘটনা ছাড়া সামাজিক আধিপত্য বিস্তার, সংখ্যালঘু নির্যাতন ও রাজনৈতিক সহিংসতা ব্যাপক হারে কমিয়ে আনা হয়েছে। থানায় মামলার সংখ্যাও কমে এসেছে। এলাকার মানুষ শান্তিতে বসবাস করছে।
শৈলকুপা বিপ্রবগদিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাচ্চু মাস্টার বলেন, এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি আগের তুলনায় অনেক ভালো আছে। এখন শৈলকুপা থানায় মামলা দায়ের, অভিযোগ দায়েরের সংখ্যাও অনেক কম। আমরা চাই শান্ত পরিবেশ বজায় থাকুক, মানুষ শান্তিতে বসবাস করুক। সামাজিক সংঘর্ষ অনেকটায় নির্মূল হয়েছে। সামাজিক দ্বন্দ্ব নিরসনে পুলিশ সুপারের ভূমিকা প্রশংসনীয় ছিলো।
দৈনিক সকালের সময় পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক ও ঝিনাইদহের বাসিন্দা রবিউল ইসলামসহ  স্থানীয় জনসাধারণরা বলছেন, এই পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে বর্তমান জেলা পুলিশ সুপার আশিকুর রহমান বিপিএম,পিপিএম(বার) এর জন্য। ২০২২ সালের ২২ আগস্ট ঝিনাইদহে পুলিশ সুপার হিসাবে যোগদানের পর থেকেই তিনি মাদক, সন্ত্রাস,জঙ্গি,অপরাধীদের বিরুদ্ধে  ও পুলিশের গ্রেফতারি ও ঘুষ বাণিজ্যের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেন। বর্তমান জেলা পুলিশ যেভাবে নাগরিক বান্ধব হবার চেষ্টা করছে তা রীতিমতো প্রশংসনীয়। এক্ষেত্রে পুলিশ সুপার আশিকুর রহমান বিপিএম,পিপিএম(বার)এর  বিশেষ ভূমিকা ও অবদান রয়েছে বলে মনে করি।’ 
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, ঝিনাইদহ সার্কেল, ঝিনাইদহ মীর আবিদুর রহমান বলেন, ‘জনগণের সেবাই পুলিশের ধর্ম। এখানে আমরা আপনাদের সেবা করতে এসেছি। কোনো তদবির, পিছুটান কিংবা কারও দ্বারা প্ররোচিত হয়ে আমাদের এখানে দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। আমরা সব ধরণের প্রভাবমুক্ত রয়েছি। চেষ্টা করি মানুষের বন্ধু হিসেবে থেকে তাদের সেবা করতে, তবে অপরাধীদের নয়। বর্তমান কর্মস্থল ঝিনাইদহ সদর থানা এলাকার মানুষের জন্য আমার দরজা সবসময় খোলা। কোনো বিপদে পড়লে, কোনো পুলিশ হয়রানি করলে, পুলিশি সেবা পেতে অর্থ চাইলে সরাসরি আমাকে জানাবেন। আমি ব্যবস্থা নেব। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, মীর আবিদুর রহমান আরো বলেন- ‘সাধারণ মানুষ এখন অনেক সচেতন। তারা জাতীয় জরুরী সেবার (৯৯৯) সহায়তা চেয়ে আইনী প্রতিকার চায়। এজন্য ৯৯৯ এর সেবা নির্বিঘ্ন রাখতে একটি টিম সব সময় প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এমন কোনো নজির নেই কেউ ৯৯৯-এর সহায়তা চেয়ে পাননি।’
ঝিনাইদহ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) শেখ মোহাম্মদ সোহেল রানা বলেন, ‘কোনো নেতিবাচক ঘটনা ঘটলেই আমরা এক তরফা পুলিশের উপর দায় চাপিয়ে দিই। এটা মোটেও ঠিক নয়। আমরা অনেক সময় না বুঝেই পুলিশকে সবকিছুর জন্য দোষারোপ করে বসি। ‘ যারা আইনশৃঙ্খলা বিনষ্ট করতে চায় এবং অপরাধীরা যতই প্রভাবশালী বা ক্ষমতাবান হউক না কেনো বিনা বাধায় আমরা তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে সক্ষম। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও উন্নত করা তখনই সম্ভব হবে যখন নাগরিক নিজ থেকে এগিয়ে এসে অপরাধ দমনে তথ্য দিবে। আমরাও নাগরিকের জন্য আমাদের ঝিনাইদহ সদর থানার দরজা সব সময় উন্মুক্ত করে রেখেছি।’
এদিকে ঝিনাইদহ জেলার জুড়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে প্রশাসনে তৎপরতা ক্রমশ বাড়ছে। কোন প্রকার তদবির না শুনে অপরাধ নিয়ন্ত্রনে কাজ করছে ঝিনাইদহ জেলা পুলিশ বিভাগ। 


আরও পড়ুন