একজন প্রতিবন্ধী নারীর সাফল্যের গল্প

news paper

রাকিবুল হাসান রাকিব, জয়পুরহাট

প্রকাশিত: ১৭-৭-২০২৩ দুপুর ২:৫৭

89Views

সালমা বেগম (৪১) তার জীবনের শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে পিছনে ফেলে জয় করে এখন সফল নারী হিসাবে সমাজকে আলোকিত করেছেন। নিজের ভাইয়ের  দেওয়া জরাজীর্ণ একটি ঘরে বসবাস করলেও সে ভিক্ষাবৃত্তি বেছে না নিয়ে নিজের পায়ে দাড়িছেন তিনি।
জয়পুরহাট শহরের জিরো পয়েন্ট এলাকায় পৌর মেয়রের দেওয়া উপহার ছোট্র একটি পানের দোকান, দুটি ছাগল ও কিছু মুরগী পালন করাসহ বাড়িতে কিছু সময় সেলাইয়ের কাজ দিয়েই চলছে তার জীবন সংসার। সংসারে একমাত্র মেয়ে হাবিবা এখন পড়াশোনা করছেন খনজনপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে সপ্তম শ্রেণীতে।

সালমা বগেম সদর উপজেলার দোগাছী ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড চকশ্যাম গ্রামের ভূমিহীন বাবা, মা ও ভাইয়ের সঙ্গে বসবাস করেন । বাবা মকবুল হোসেন ও মা রেখা বেগমের ছোট মেয়ে ছালমা। বাবা মকবুল হোসেনও মারা যান গত বছর।

সালমার মা, রেখা বেগম  বলেন, সালমা ছোট বেলায় ৬ মাস বয়সে শরীরে প্রচন্ড জ্বর হওয়ার পর চিকিৎসা অভাবে কোমর থেকে বাম পা অবস হয়ে যায়। এভাবেই প্রতিবন্ধীতা নিয়ে বেড়ে ওঠা ছালমা পাশের  প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গন্ডি পেরিয়ে ভর্তি হন খনজনপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে। অত্যান্ত মেধাবী ছালমা লাঠিতে ভর দিয়েই স্কুলে যেতেন সহপাঠীদের সঙ্গে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের আর্থিক অসচ্ছলতার কারনে ৮ম শ্রেণী পাশ করার পর লেখা পড়া থেমে যায় সালমার। ২০০১ সালে আমদই ইউনিয়নের দন্ডপানি গ্রামের শাজাহান আলীর সঙ্গে বিয়ে দেয় আমরা। তারপর তাদের  সংসারে জন্ম নেয়া একমাত্র মেয়ের নাম রাখেন হাবিবা। পরিবার পরিকল্পনা সম্পর্কে সচেতন হওয়ার কারনে আর সন্তান নেননি তারা। স্বামীর এটি দ্বিতীয় বিয়ে হওয়ার কারনে ছালমার ভাগ্যে স্বামীর

চকশ্যাম গ্রামের সালমা বেগমের ভাবি ও তার ফুপা মিজানুর রহমান  বলেন, আমরা তাকে ছোট থেকেই দেখতেছি সে কখন মানুষের কাজে হাত পাততেন না। বরং সে নিজে সবসময় পরিশ্রম করতেন। আমরা দেখি সে বাসায় বকরি পালন করে, মুরগী পালন করে আবার কখনো কখনো সেলাইয়ের কাজ করে নিজের সংসার চালান। তারা বলেন, সালমা বেগম আমাদের সমাজের জন্য বোঝা না হয়ে সে যে নিজের পায়ে নিজে দাড়িয়েন এটা আমাদের জন্য বড় প্রাপ্তি, আমাদের চাওয়া সে যেহতু ভাইয়ের বাড়িতে থাকেন তাকে যদি সরকার একটি ঘরের ব্যবস্থা করে দিতেন তাহলে সে তার মেয়েকে নিয়ে সেখানে বসবাস করতে পারতেন।

সালমা বেগম  বলেন, আমার ছয়মাস বয়স থেকেই আমি প্রতিবন্ধী, তারপরও আমি ৮ম শ্রেনী পযর্ন্ত পড়াশোনা করেছি। এরপর আমাকে প্রতিবন্ধী বলে যখন কেউ বিয়ে করতে চায় না ঠিক সেই মূহুর্তে সদর উপজেলার দন্ডপানি গ্রামের  শাজাহান আলী আমাকে বিয়ে করে। যদিও তার সেখানে অন্য একটা পরিবার রয়েছে তারপরও সে আমাকে বিয়ে করে। কিন্তু তার সংসারের অবস্থাও তেমন ভালো না হওয়ায় আমার আর সেখানে যাওয়া হয়নি। এরপর আমি ভাইয়ের বাসায় থেকেই নিজের পায়ে দাড়িয়েই কিছু করার চেষ্টা করছি যাতে করে আমাকে ভিক্ষা করা কিংবা মানুষের কাছে হাত পাততে না হয়।

তিনি বলেন, ২০০৬ সালে  আমাকে সরকার প্রতিবন্ধী ভাতারও ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। যাহার নং- ১৫৬/০৬)  সেই টাকা দিয়ে আমি ছাগল ও মুরগী পালন করি। আমার এই পরিস্থিতি চোখে পড়ে জয়পুরহাট পৌরসভার মেয়র মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক আমাকে একটি দোকানের ব্যবস্থা করে দেন। এই সেই দোকানে আমি পানসহ আর জিনিসপত্র বিক্রি করি। সেই দোকান থেকে আল্লাহর রহমতে যা পাই তা দিয়ে আমার সংসারের কাজ চালাই।


আরও পড়ুন