জাবিতে তিন দফা দাবিতে শিক্ষার্থীর অনশন অব্যাহত

news paper

মাজহার তাহমিদ, জাবি

প্রকাশিত: ৬-৬-২০২৩ রাত ১১:৫৪

13Views

গণরুম বিলুপ্তিসহ তিন দফা দাবিতে অনশন পালন করছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ^বিদ্যালয়ের (জাবি) মীর মশাররফ হোসেন হলের এক শিক্ষার্থী। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীর নাম সামিউল ইসলাম প্রত্যয়। তিনি ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের ৪৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী। বুধবার সন্ধ্যা ছয়টা থেকে অনশন পালনের ঘোষণা দেন তিনি। সর্বশেষ তথ্যমতে ৪৮ ঘন্টা পেরিয়ে শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত হলের সামনের মাঠে অবস্থান করতে দেখা গেছে তাকে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রত্যয়।    

প্রত্যয়ের তিন দফা দাবিগুলো হলো গণরুম বিলুপ্তি, মেয়াদোত্তীর্ণ ছাত্রদের অবিলম্বে হল ত্যাগ, গণরুম—মিনি গণরুমে অবস্থান করা বৈধ ছাত্রদের সিট সুনিশ্চিত করা। এর আগেও ঈদের ছুটির আগে একই দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছিলেন তিনি। দাবি আদায়ে উপাচার্য, প্রক্টর, প্রভোস্টের কাছে কয়েক দফায় লিখিত আবেদন করে আসছিলেন তিনি।
এর আগে, ঈদের ছুটির পূর্বে বৈধ সিটের দাবিতে হলের অফিসে সামনে অবস্থান কর্মসূচী পালন করলে হল প্রশাসন থেকে এ ব্লকের ৪৪৭ নং রুম বরাদ্দ দেয়া হয়। একই কক্ষে ইতিহাস বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী সবুজ (৪৩ ব্যাচ) অবস্থান করছিলেন। অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনের জন্য তার রুমমেট তাকে গত ২৫ এপ্রিল প্রত্যয়কে কক্ষ থেকে বের করে দেয়। এরপর ২৬ এপ্রিল থেকে তিনি এই কর্মসূচী শুরু করেন। হলের বাইরে মাঠেই বিছানা পেতে রাত্রিজাপন করেছেন তিনি।

তবে রুমমেট সবুজের দাবি, তিনি প্রত্যয়কে বের করেননি। সে নিজেই কক্ষ থেকে বের হয়ে গেছে। প্রত্যয়ের বিরুদ্ধে রুমে গাঁজা সেবনের অভিযোগ তুলেন। তবে তিন বছর আগেই ছাত্রত্ব শেষ হওয়ার পরও সবুজের হলে অবস্থান করায় আপত্তি তোলেন প্রত্যয়।

প্রত্যয়ের দাবি, হলের ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা তাকে বিভিন্নভাবে হেনস্তা করে যাচ্ছেন। এজন্য প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তার আবেদনও করেন তিনি। এদিকে প্রত্যয়ের দ্বিতীয় বর্ষের ফাইনাল পরিক্ষা চলমান। আন্দোলনের পাশাপাশি গত বৃহস্পতিবার বিভাগের পরীক্ষায়ও অংশগ্রহণ করেছেন তিনি।

আন্দোলনকারী সামিউল ইসলাম প্রত্যয় বলেন, বিগত দেড় বছর ধরে প্রশাসনকে এই দাবিগুলো জানিয়ে আসছি। কোন ফল না পাওয়ায় অনশন করতে বাধ্য হয়েছি।নবনিযুক্ত প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. সাব্বির আহমেদ বলেন, আমরা তার দাবিগুলোর সাথে একমত। আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে তার দাবিগুলো সমাধানের আশ^াস দিয়েছি। তবে সে আমাদের আশ^াসে আশ^স্থ না হয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাবে বলেছে।

মীর মশাররফ হোসেন হলের সাবেক প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. ওবায়দুর রহমান বলেন, আমি বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেছি। যেহেতু আমি আমার দায়িত্বের শেষ প্রান্তে এসে পৌঁছেছি। আগামী রবিবারে নতুন প্রভোস্ট দায়িত্ব বুঝে নেবেন। কাজেই আমি বিষয়টি তার দায়িত্বে দিয়ে দিয়েছি। আশা করছি বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসন যথার্থ ব্যবস্থা নেবে।

এদিকে আন্দোলনরত প্রত্যয়ের সাথে কথা বলতে ঘটনাস্থলে আসেন প্রক্টর আ স ম ফিরোজ উল হাসান। তাকে শরবত খাইয়ে অনশন ভাঙানোর চেষ্টা করেন তিনি। তবে প্রত্যয় অনশন ভাঙতে অপারগতা প্রকাশ করেন। প্রক্টর আ স ম ফিরোজ উল হাসান বলেন, আমরা তাকে দাবি মেনে নেয়ার ব্যাপারে আশ^স্থ করেছি। তাকে রুমে তুলে  দেয়ার চেষ্টা করেছি। তার বাসায়ও ফোন করেছি। কিন্তু সে কোনকিছুতেই মানছে না। আমি মেডিকেলে ফোন করেছি। ডাক্তার এসে তার স্বাস্থ্যপরীক্ষা করবেন।এ ব্যাপারে প্রভোস্ট কমিটির সভাপতি নাজমুল হাসান তালুকদার বলেন, আমি তার দাবিগুলোর সাথে সম্পূর্ণ একমত। একটি পূর্ণাঙ্গ আবাসিক হলে এমন সমস্যা কোনভাবেই কাম্য নয়। আমি বিষয়টি নিয়ে প্রভোস্টসহ হল কর্তৃপক্ষের সকলের সাথে আলোচনা করেছি। আমরা কখনোই চাইনা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণরুম থাকুক। আশা করছি আমরা খুব শীঘ্রই সমস্যাগুলোর সমাধান করতে পারবো।

বুধবার ৩১ মে থেকে অনশন শুরু করে প্রত্যয়। সর্বশেষ তথ্যমতে মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যাচ্ছে সে। প্রভোস্ট বলেন, আমরা ইতোমধ্যেই হলের সবগুলো রুমে গিয়েছি। অছাত্রদের তালিকা প্রস্ততির কাজ চলমান আছে। সবার কাছে ইতোমধ্যেই নোটিস পৌছে দেয়া হয়েছে। 

ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক পারভীন জলি বলেন, আমরা একটা দুঃসহ সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি৷ একটা ছেলে অনশন করে মারা যাচ্ছে, কিন্তু প্রশাসন কেমন নির্লিপ্ত অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। পাঁচদিন পেরিয়ে গেলেও এখনো একটা অছাত্রকেও হল থেকে বের করতে পারেনি। 

এদিকে অনশনরত প্রত্যয়ের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন উপ প্রধান মেডিক্যাল অফিসার ডাঃ রিজওয়ানুর রহমান। আজ বিকেলে তিনি জানান, তার পালস রেট ৯০/৬০ এ নেমে এসেছে। তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেয়া উচিত। গরমের এই সময়টাতে তার মারাত্মক কোন শারীরিক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে৷


আরও পড়ুন