জামায়াতের ডোনার নুরুল ইসলাম এখন আ’লীগার

news paper

সাজেদা হক

প্রকাশিত: ২২-৩-২০২৩ বিকাল ৫:১২

111Views

জীবন যেখানে যেমন-নীতিতে বিশ্বাসী নোমান গ্রুপের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম। অভিযোগ উঠেছে জামায়াতের বিশিষ্ট ডোনার থেকে বর্তমানে রং পাল্টিয়ে আওয়ামী লীগার সেজেছেন এই ব্যবসায়ী। তিনি জাল ডলার ব্যবসা করতেন বলে তার এক সময়ের ঘনিষ্ঠরা জানিয়েছেন।  

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামী লীগের স্থানীয় একাধিক নেতা বলেন, ঘটনার শুরু বলা চলে ১৯৬৮ সালে। সে বছরই নুরুল ইসলাম ঢাকায় এসে তার নিজ এলাকা লোহাগাড়ার মমতাজ মিয়ার ‘তৈয়ব আশরাফ টেক্সটাইল মিলস’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের বিক্রয়কর্মী হিসেবে কাজ শুরু করেন। এ প্রতিষ্ঠানের অধীনে ছিল একাধিক প্রতিষ্ঠান। সেগুলো হলো- মরিয়ম টেক্সটাইল, আরটেক্স ফ্যাব্রিকস, নাজনীন ফ্যাব্রিকস। এসব প্রতিষ্ঠানে উৎপাদিত ক্যারোলিন গেঞ্জি, মশারি, ওড়না এবং পলিয়েস্টার কাপড় ইত্যাদি পণ্য গুলিস্তানে বিক্রি করতেন নুরুল ইসলাম। 

তারা বলেন, প্রতিষ্ঠানগুলোর পণ্য বিক্রির পাশাপাশি কিছু চোরাকারবারীদের সাথে অবৈধ ডলারের ব্যবসা শুরু করেন। এ খবর তৈয়ব আশরাফ প্রতিষ্ঠানের মালিক জানতে পারলে তার সব ব্যবসা বন্ধ করে দেন। ফলে নিজ গ্রাম লোহাগাড়ায় ফিরে আসেন। ওই বছর বিয়েও করেন। লোহাগাড়ার চুনতি এলাকার চশমা কাসেম, পুটি বিলার, ওসমান মিয়া এবং দ্বীন মোহাম্মদের  সাথে নতুন করে শুরু করেন জাল ডলারের ব্যবসা। নুরুল ইসলামসহ সবাই জাল ডলার তৈরি করতেন, আবার বিক্রিও করতেন এই ব্যবসায় টাকা-পয়সার হিসাব নিকাশ ও নগদ টাকা থাকতেন নুরুল ইসলামের হাতে। তখনই তার নাম দেশে-বিদেশে ফুটে উঠে ‘ডলার ইসলাম’ হিসেবে। বর্তমানেও ডলার ইসলাম নামে সবাই তাকে চিনেন। এরই মধ্যে দীন মোহাম্মদ ও চশমা কাসেমসহ কয়েকজনকে অবৈধ জাল ডলার বিক্রি করার দায়ে পুলিশ গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে পাঠিয়ে দেন। জেল হাজত থেকে চশমা কাসেম ও দীন মোহাম্মদ নুরুল ইসলামকে একাধিকবার অশ্রুঝরা কান্নায় চিঠি দেন জেল থেকে জামিনে মুক্ত করার জন্য। কিন্তু নুরুল ইসলাম তাদেরকে কোনো জামিন করাননি, বরং তাদের সাথে বেঈমানি করে নিজেকে আড়াল করে রাখেন।

স্থানীয় নেতারা বলেন, এর মধ্যে ব্যাংক ঋণের কারণে তৈয়ব আশরাফের প্রতিষ্ঠান মরিয়ম টেক্সটাইল, আরটেক্স ও নাজনীন ফ্যাব্রিকস ১৯৮১ সালে পাওনা ঋণ আদায়ে এসব কারখানা একে একে নিলামে তোলে ব্যাংক। নিলামে অংশ নিয়ে যন্ত্রপাতিসহ কারখানাগুলো তৎকালীন ১৫/২০ লাখ টাকা দিয়ে কিনে নেন নুরুল ইসলাম। টাকাগুলো ছিল সবই ওই অবৈধ ডলারের। বাকি ডলারের টাকা দিয়ে শুরু করেন মশারী ব্যবসা। এই ব্যবসার আড়ালে পাশাপাশি ডলারের ব্যবসাও অব্যাহত রেখেছিলেন। বাংলাদেশ জামায়াত ইসলাম যখন ক্ষমতায় আসেন তখন যোগ দেন জামায়াতে ইসলামে। পরিচিত হন জামায়াতের শীর্ষ নেতা মীর কাসেম আলী ও আবুল কালাম আজাদের সাথে। পরবর্তীতে এই দুই নেতার ঘনিষ্ঠ বন্ধু হয়ে যান। তখনই আবুল কালাম আজাদকে তার ব্যবসায় বিভিন্ন ইসলামিক নিয়ম অনুসারে যাকাতের টাকা-পয়সা হিসাব নিকাশ করে দেয়ার জন্য তার প্রতিষ্ঠিত নোমান গ্রুপের যাকাত ফান্ডের শরীয়া আইনের উপদেষ্টা বানান। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৯৩ সালে আবুল কালাম আজাদকে তার প্রতিষ্ঠিত আধুনগর ইসলামীয়া কামিল মাদ্রাসায় এক বার্ষিক মাহফিল সভায় দাওয়াত দিয়ে নিয়ে আসেন এবং কয়েকদিন যাবৎ নিজ বাড়িতেও রাখেন। তখন নুরুল ইসলাম জামায়াতের এই লেবাসে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ থেকে ঋণ নেন। আর এই ঋণ নিয়েই জাবের এন্ড জুবাইয়ের ফেব্রিক্স লিমিটেড ও নোমান গ্রুপ প্রতিষ্ঠা করেন।

স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের অভিযোগ, জামায়াতকে দেখানোর জন্য নুরুল ইসলাম মা-বাবার নামে  ইসমাইল আঞ্জুমান আরা ওয়েল ফেয়ার ট্রাস্ট নামকরণ করে একটি প্রতিষ্ঠান তৈরি করেন। এই প্রতিষ্ঠানের নামে লোহাগাড়ার বিভিন্ন ইউনিয়নে ২৮টি মসজিদ মিশন নামে মক্তব পরিচালনা করেন। ওই মক্তবগুলোতে এলাকার জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের চাকরি দেন। এখনও মসজিদ মিশনের দায়িত্বে আছেন আসাদ উল্লাহ ইসলামাবাদী; যিনি লোহাগাড়া থানার জামায়াতের আমীর এবং জামায়াতের শীর্ষ ক্যাডার। এছাড়াও অতীতে ও বর্তমানে উক্ত ইসমাইল আঞ্জুমান আরা ওয়েল ফেয়ার ট্রাস্টের নামে সৌদি আরব থেকে জামায়াতের জন্য অনুদান আসে। উক্ত অনুদান নুরুল ইসলাম লোক দেখানো কিছু টাকা লোহাগাড়া জামায়াতের ফাউন্ডে বিলিয়ে দেন এবং বাকি সব অনুদান তার নিজের প্রতিষ্ঠান নোমান গ্রুপে ব্যয় করেন। সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশ ও জামায়াতকে দেখানোর জন্য নুরুল ইসলামের প্রতিষ্ঠান নোমান গ্রুপে জামায়াত ঘরানার শত শত কর্মচারী ও শ্রমিকদের নিয়োগ দেন। ২০০৫ সালে নোমান গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান জাবের এন্ড জুবাইয়ের ফেব্রিক্স লিমিটেড এর নামে আবারও ইসলামী ব্যাংক থেকে ঋণ নেন তিন হাজার কোটি টাকা। এছাড়া জামায়াতের নয়াদিগন্ত পত্রিকার শেয়ার হোল্ডারে ও নয়াদিগন্ত পত্রিকার নামে ফার্মগেট মোড়ে এক জায়গায় তার নাম আছে। 
স্থানীয়দের অভিযোগ, জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলী ও আবুল কালামের যুদ্ধাপরাধের দায়ে বিচার যখন শুরু হয় ঠিক তখনই জামায়াত থেকে সাময়িক বিচ্ছিন্ন হন নুরুল ইসলাম। ২০১২ সালে চট্টগ্রাম লোহাগাড়া থানার আধুনগর সিপাহীর পাড়ার আবুল কাসেমের মাধ্যমে সামরিক সচিব মেজর মিয়া মুহাম্মদ জয়নুল আবেদীন বাচ্চুর সাথে যোগাযোগ করেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের অভিযোগ থেকে বাঁচার জন্য সামরিক সচিক মিয়া মো. জয়নাল আবেদীন বাচ্চুর নামে স্কুল ও রাস্তা করে দেন নুরুল ইসলাম। ব্যাংকের এই ঘুস কমিশনের বাণিজ্য করে আবুল কাসেম হয়ে ওঠেন কমিশন কাসেম ওরফে আবুল কাসেম চৌধুরী। ২০১৯ সালে সামরিক সচিব মেজর মিয়া মোহাম্মদ জয়নুল আবদিন মারা গেলে গ্রুপের পক্ষে বিভিন্ন দুর্নীতি ও অনিয়ম ধামাচাপা দিতে আওয়ামী লীগের  কেন্দ্রীয় এক  নেতার সাথে পরিচয় করিয়ে দেন আবুল কাসেম চৌধুরী। 

এসব বিষয় নিয়ে লোহাগাড়া থানা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আধুনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আইয়ুব মিয়া বলেন, নোমান গ্রুপের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম এখন কোনো দল করে না। তবে জামায়াতকে পৃষ্ঠপোষকতা করেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে লোহাগাড়া থানার স্থানীয় এক নেতা বলেন,  নুরুল ইসলাম মানুষ খারাপ, প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে মামলা দিয়ে হয়রানি করে। আধুনগর উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির অভিভাবক সদস্য বানিয়েছেন পারভীন আক্তার, যিনি মাদক ব্যবসায়ী। অনেক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি। পারভীন আক্তারের স্বামী মোহাম্মদ আলী চকোরিয়ায় আইনশঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মারা যান।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামী লীগের আরেক নেতা বলেন, নুরুল ইসলামের পরিবার আগে চট্টগ্রামে ঘাটগাইট্টা ছিল। পরে ঢাকা গিয়ে এখন বিশিষ্ট শিল্পপতি। চট্টগ্রাম ১৪ আসন ছিল তখন। এখন এটা ১৫ নম্বর আসন। সেসময় ১৯৭৮ কিংবা ’৭৯ সাল হবে, তখন তিনি চট্টগ্রামে ২ নম্বর ডলারের ব্যবসার দোকানে ক্যাশিয়ারের কাজ করতো। চট্টগ্রামে জামায়াতের সব সদস্যদের সাথেই বর্তমানে নুরুল ইসলামের ঘনিষ্ঠতা। ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় যারা আসা-যাওয়া করেন, তাদের সকলেই জামায়াতের কর্মী। উনি সাধারণ মানুষকে যদি ৫ টাকা দান করেন বিপরীতে জামায়াত-শিবির ঘরানার লোকদের দান করেন ২০ টাকা-এসব আমরা নিজের চক্ষেই দেখছি। মূলত তিনি কোনো দল করেন না কিন্তু জামায়াতকে অর্থায়ন করেন। জামায়াতের সব বড় নেতাদের সাথে ঘনিষ্ঠতা ছিল। এখনও যারা জামায়াতের সাথে জড়িত তাদের সাথে এখনও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রাখেন। 
অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০০১ সালের ৯/১১ এ যুক্তরাষ্ট্রের টুইন টাওয়ারে হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র সরকার জঙ্গি অর্থায়ন করে-এমন কিছু প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেয়। মো. নুরুল ইসলাম তার পরিচালনাধীন ‘ইসমাইল আঞ্জুমান আরা  ট্রাস্ট ফাউন্ডেশন’-এর নামে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে বিপুল অর্থ আনেন। নোমান গ্রুপ এটিকে দাতব্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে দাবি করলেও যুক্তরাষ্ট্র এই প্রতিষ্ঠানকে ‘জঙ্গি অর্থায়ন’ তথা জঙ্গি কানেকশন রয়েছে সন্দেহ করে। সেই সন্দেহ থেকেই নূরুল ইসলাম ও তার পরিবারের সব সদস্যের বিরুদ্ধে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ। 

এছাড়া, ২০০৪ সালের আগে থেকেই দৈনিক নয়া দিগন্তের শেয়ার হোল্ডার ছিলেন নোমান গ্রুপের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম। রাজধানীর কারওয়ান বাজারে দৈনিক নয়া দিগন্ত পত্রিকার একটি জমিতেও নাম আছে তার। জামায়াতের ডোনার হলেও রং বদলাতে তার সময় লাগে না। শুধুমাত্র সুবিধা আদায়ের জন্য তিনি এখন গায়ে পরেন মুজিব কোট। দলটির কিছু নেতার সাথে রয়েছে তার ঘনিষ্ঠতা। এ পরিচয়েই তিনি এখন আওয়ামী লীগের লোক বলে পরিচয় দেন। যদিও দলের কোনো শাখায় তার পদ-পদবি নেই। স্থানীয় (লোহাগাড়া) জামায়াত নেতাদের সাথে এখনও মাঝে মাঝে নুরুল ইসলামকে বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নিতে দেখা যায়। এলাকায় তার নামে প্রতিষ্ঠিত আধুনগর ইসলামীয়া কামিল মাদ্রাসায় জঙ্গি প্রশিক্ষণ চলে বলেও অভিযোগ রয়েছে। মাদ্রাসাটি ১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠিত। এই মাদ্রাসার ২০১৩ সালের মার্চ মাসের ৩১ তারিখে কক্সবাজারের কুতুবদিয়া থানায় ককটেল বিস্ফোরণ মামলা দায়ের করা হয়, যার নম্বর ১৯। গ্রেপ্তার করা হয় ওই মাদ্রাসার একাধিক শিক্ষার্থীকে।

নোমান গ্রুপের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম সরাসরি জামায়াতের ডোনার হিসেবে বেশ প্রশংসিত এবং পরিচিত। তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের লভ্যাংশের বড় একটা অংশ জামায়াতের ফান্ডে চলে যায়। জামায়াতি প্রতিষ্ঠান ইসলামি ব্যাংকের তথ্য মতে, তাদের প্রথম সারির ঋণগ্রহীতা নোমান গ্রুপ। এই ব্যাংক বিগত সময়ে জামায়াতের ডোনারদের আর্থিকভাবে স্বচ্ছল করার যে প্রয়াস গ্রহণ করেছিল তার সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী নোমান গ্রুপ। নুরুল ইসলামের ৫ সন্তান শিক্ষা সম্পন্ন করেছেন জামায়াতি ঘরনার প্রতিষ্ঠান থেকে। বিদেশের বিভিন্ন দেশের সাথে তাদের বিনিয়োগের আড়ালে কোটি কোটি টাকা হুন্ডির মাধ্যমে পাচার করছেন জুবায়ের ও ফাতেমা নামের দুই সন্তান। জুবায়ের সশস্ত্র ক্যাডার বাহিনী এবং নিজের নামে লাইসেন্স করা অস্ত্র নিয়ে বিভিন্ন সময় দাপিয়ে বেড়ান। নিজ গ্রাম লোহাগাড়ায় বিএনপির আব্দুল আওয়াল মিন্টুর ছোট ছেলের সাথে সার্বক্ষণিক থাকেন। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নোমান গ্রুপের সাবেক এক কর্মকর্তা জানান, প্রথমে বুঝতে পারিনি জুবায়ের জামায়াত-শিবির করে। কারণ তার চালচলন একেক সময় একেক রকম। হঠাৎ ক্যাজুয়াল ড্রেস ক্লিন সেভ আবার হঠাৎ পুরো মাওলানার মত দাড়ি জুব্বা, পাগড়ি পরে আমাদের তার অফিসে ডেকে নিয়ে শরিয়াহ মোতাবেক চলার জন্য অনুশাসন দেন এবং জামায়াতি ঘরানার কথা বলতে থাকেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নোমান গ্রুপের সাবেক এক কর্মকর্তা জানান, নুরুল ইসলামের একমাত্র কন্যা নূর-ই-ইয়াসমিন ফাতেমা হিজাব পরে তার কোম্পানির সকলকে শরিয়াহ ভিত্তিক দাওয়াত দেয় আবার নিজেও অস্ত্র লাইসেন্স করে সাথেই রাখেন। 
এ বিষয়ে মন্তব্য জানার জন্য নুরুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ওপরে উল্লেখ করা সকল অভিযোগই মিথ্যা ও বানোয়াট।   


আরও পড়ুন