ঢাকা বৃহষ্পতিবার, ১৮ আগস্ট, ২০২২

কমলগঞ্জে সকল রোগের চিকিৎসা করছেন পল্লী চিকিৎসক সুমন আচার্য্য


সাদিকুর রহমান সামু, কমলগঞ্জ photo সাদিকুর রহমান সামু, কমলগঞ্জ
প্রকাশিত: ৬-৮-২০২২ বিকাল ৫:৩
মৌলভীবাজারে কমলগঞ্জে এমবিবিএস পাস না করেও সকল রোগের চিকিৎসা করছেন সুমন আচার্য্য নামে এক পল্লী চিকিৎসক। অভিযোগ রয়েছে, তার কাছে চিকিৎসা নিয়ে অনেকেই হয়েছেন আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত।
 
পল্লী চিকিৎসক সুমন আচার্য্যের বাড়ি কমলগঞ্জের মুন্সীবাজারের বিক্রমকলস। প্রথমে তিনি চাকরি করতেন স্থানীয় মুন্সীবাজারের আচার্য্য মেডিকেল হল নামে একটি ফার্মেসিতে। পরে তিনি সুমি মেডিকেল হল নামে একটি ওষুধের দোকান খোলেন। পরবর্তীতে ওই ওষুদের দোকানে রোগী দেখার চেম্বার খুলে হয়ে যান ডাক্তার। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত এবং বিকেল ৪টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত নির্ধারিত ভিজিট নিয়ে শিশুরোগসহ সকল রোগের রোগী দেখেন বলে জানান স্থানীয়রা।
 
অনুসন্ধানে জানা যায়, চলতি বছরের এপ্রিলে পেটব্যথা নিয়ে এক তরুণী তার চেম্বারে গেলে তাকে প্রেগন্যান্সি টেস্টের জন্য পাঠান নিজের ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। সেখান থেকে প্রেগন্যান্সি রিপোর্ট আসে। পরে অবিবাহিত ওই তরুণী জেলা সদরে গিয়ে রিপোর্ট করলে প্রেগন্যান্সি রিপোর্ট ভুল ধরা পড়ে। পরে ক্ষতিপূরণ দিয়ে সে যাত্রায় রক্ষা পান এই চিকিৎসক।
 
সরেজমিন ফার্মেসি ব্যবসার লাইসেন্স নিয়ে চিকিৎসা চালানো এ পল্লী চিকিৎসকের চেম্বারে সম্প্রতি রোগী সেজে গেলে শারীুরিকভাবে কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করেই তিনি কোলেস্টেরল, লিভার ও কিডনিসহ ৮টি টেস্ট দেন। ওই টেস্টের ফি’র টাকা হিসাব করে হেলথ কেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টার দেখিয়ে বলেন ওখানে টেস্ট করবেন। সেখানে গেলেই নাকি এক টিপেই সব রেকর্ড চলে আসবে বলেন ওই চিকিৎসক।
 
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, পল্লী চিকিৎসক সুমন আচার্য্যের এসব টেস্ট লেখার কোনো এখতিয়ার নেই। তবুও তিনি এমন অসংখ্য টেস্ট দিচ্ছে। আরএমপি (রুরাল মেডিক্যাল প্র্যাকটিশনার) কোর্স করেই এমবিবিএস চিকিৎসকের মতোই করছেন জটিল সব রোগের চিকিৎসা। আইন অমান্য করে ডিজিটাল সিল বানিয়ে নামের আগে পদবি লিখছেন ‘ডাক্তার’। আর ডিজিটাল প্যাড ছাপিয়ে তাতে লিখেছেন ভিডিআরএমপি। পল্লী চিকিৎসায় ভিডি নামে কোনো কোর্স না থাকলেও সুমন আচার্য্যের প্যাডে ভিডিআরএমপি লেখা রয়েছে। তিনি ভিডি শব্দের কোনো ব্যাখ্যা দিতে না পারলেও তার এক কলিগ এটা ভিলেজ ডক্টর বলে মন্তব্য করেন।
 
জানা যায়, আরএমপি কোর্স করে নামের আগে ‘ডাক্তার’ লিখে চেম্বার খুলে এই পল্লী চিকিৎসকের রোগী দেখার আইনগত অনুমোদন বা যোগ্যতা কোনোটাই নেই। আইন বলছে, তিনি সাধারণ রোগীদের প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরামর্শ প্রদান করবেন এবং জটিল-স্পর্শকাতর রোগীদের বিশেষায়িত সরকারি  হাসপাতাল বা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের কাছে প্রেরণের নিয়ম রয়েছে। অথচ তিনি করছেন ঠিক এর উল্টো। চিকিৎসার নামে সাধারণ এবং জটিল সকল রোগের অপচিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছেন। অসহায় রোগীদের তিনি ব্যবহার করছেন ‘গিনিপিগের’ মতো। তার ভুল চিকিৎসা, মাত্রাতিরিক্ত ওষুধের প্রেসক্রিপশনের কারণে হরহামেশাই মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়তে হচ্ছে সাধারণ রোগীদের। ডাক্তার রূপধারী এই পল্লী চিকিৎসকের ওপর প্রশাসনের নজর বা নিয়ন্ত্রণ কোনোটাই নেই। একারণে প্রতিনিয়ত প্রতারিত হচ্ছেন সেবা নিতে আসা গ্রামের অসংখ্য মানুষ।
 
স্থানীয়রা বলছেন, কমলগঞ্জের উত্তরাঞ্চলে চিকিৎসক সংকট থাকায় এবং গ্রামের মানুষের সচেতনতার অভাবকে পুঁজি করে বছরের পর বছর রোগী দেখে যাচ্ছেন সুমন আচার্য্য। রোগমুক্তি তো দূরের কথা, এসব ভুয়া চিকিৎসকের ওষুধ খেয়ে নানান জটিলতায় ভুগছেন হাজারো রোগী। এছাড়া মাঝেমধ্যেই তাদের ভুল চিকিৎসার কারণে রোগীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। আবার অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধের যথেচ্ছ ব্যবহারের কারণে রোগকে আরো জটিল থেকে জটিলতর পর্যায়ে নিয়ে নিরাময়-অসম্ভব করে ফেলছেন। নিজের চেম্বার খোলার পাশাপাশি এ পল্লী চিকিৎসকের ওষুধের ফার্মেসী রয়েছে। হেলথ কেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টার নামের স্থানীয় এক ডায়াগনস্টিক সেন্টারের শেয়ার হোল্ডারও তিনি।
 
নিজেই ডাক্তার, নিজেই আবার ওষুধ বিক্রেতা আর নিজে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পার্টনার। একারণে রোগীদের মাত্রাতিরিক্ত ওষুধের প্রেসক্রাইবও করছেন দেদারসে। লিখছেন নানা টেস্ট। নিজেকে আর্থিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে গ্রামের অশিক্ষিত-অল্প শিক্ষিত তথা গরিব মানুষদের আর্থিকভাবে সর্বস্বান্ত করছেন।
 
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মেডিসিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বলেন, এ পল্লী চিকিৎসক রোগের প্রাথমিক অবস্থায় উচ্চমাত্রার অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে যাচ্ছেন। তার ভুল চিকিৎসার কারণে রোগীরা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন।
 
আলাপকালে পল্লী চিকিৎসক সুমন আচার্য্য সাংবাদিকদের বলেন, আমি ডাক্তার। ডাক্তার হিসাবে রোগীর অবস্থা বুঝে যে কোনো ঔষধ বা টেস্ট দিতে পারি। নিজের কোনো ডায়াগনস্টিক সেন্টার বা কোনো ডায়াগনস্টিক সেন্টারে তার শেয়ার নেই বলেও জানান তিনি। এর বাইরে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের রিসিপশনের দায়িত্বে থাকা কর্মচারী বলেন, ডাক্তার সাহেব ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক নন, ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ওই ডাক্তারের শেয়ার আছে।
 
কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার মাহবুবুর আলম ভূঁইয়া বলেন, বিএমডিসি (বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল) অ্যাক্ট অনুযায়ী কেবল এমবিবএস পাসকৃত চিকিৎসক ও ডেন্টাল সার্জনরা তাদের নামের আগে ডা. (ডাক্তার) লিখেতে পারবেন। এর বাইরে ডাক্তার লেখার সুযোগ নাই। এটি একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি। 

এমএসএম / জামান

চাচই ধানাইড় মাধ্যামিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

চট্টগ্রামে দুই সাংবাদিকের ওপর হামলায় সিআরএফ'র নিন্দা

পঞ্চগড়ে সহঃ প্রধান শিক্ষককে ফাঁসাতে গিয়ে প্রধান শিক্ষক বরখাস্ত

নাটোরের বিভিন্ন স্থানে ভোক্তা অধিকারের বিশেষ অভিযান

সাভারে সাংবাদিক সোহেল রানাকে হত্যাচেষ্টার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ

গাজীপুরে যুব উন্নয়ন আধিদপ্তরের জাতীয় শোক দিবস পালন

শান্তিগঞ্জে আ‘লীগের বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত

গলাচিপায় মুক্তিযোদ্ধা মার্কেটের উদ্বোধন

মাগুরায় জেলা আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত

পানিতে ডোবা প্রতিরোধে শান্তিগঞ্জে র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

দেবীদ্বারে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে বিক্ষোভ

হরিণাকুণ্ডুতে মাদকদ্রব্র্যের অপব্যবহার রোধকল্পে কর্মশালা অনুষ্ঠিত

রাজবাড়ীতে হাইওয়ে পুলিশের কমিউনিটি ও বিট পুলিশিং সভা অনুষ্ঠিত