ঢাকা বৃহষ্পতিবার, ১৮ আগস্ট, ২০২২

নদীভাঙনে দিশাহারা তিস্তাপারের মানুষ


জামাল বাদশা, লালমনিরহাট photo জামাল বাদশা, লালমনিরহাট
প্রকাশিত: ৬-৮-২০২২ দুপুর ৪:৪৯
তিস্তা নদীর পানি কমে যাওয়ায় ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে তিস্তাপাড়ে। নদীর পানি কমে যাওয়ার সাথে দেখা দিয়েছে ভাঙন। তিস্তাতীরবর্তী বাসিন্দাদের চোখের সামনেই নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা ও ফসলি জমি। ভাঙনে ফসলি জমি ও বসতভিটা হারিয়ে নিঃস্ব হওয়া এসব মানুষ এখন মাথা গোঁজার ঠাঁই খুঁজতে দিশাহারা।
 
তিস্তার ভারত অংশে নির্মিত গজলডোবায় বাঁধের মাধ্যমে ভারত সরকার একতরফা এর পানি নিয়ন্ত্রণ করায় শীতের আগেই বাংলাদেশ অংশে তিস্তা মরুভূমিতে পরিণত হয়। বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত পানিপ্রবাহের ফলে বাংলাদেশ অংশে ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হয়। বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় তিস্তার বাম তীরের জেলা লালমনিরহাট।
 
এবারকার বর্ষার ভয়াবহ বন্যার ধকল কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই ভাঙন আতঙ্কে পড়েন তিস্তাপারের বাসিন্দারা। গত সপ্তাহে বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পরপরই তীব্র ভাঙনের মুখে পড়ে নদীপারের মানুষ। একেকটি পরিবার ৮-১০ বার নদীভাঙনের শিকার হয়ে সরিয়ে নিয়েছেন বসতভিটা। কেউ কেউ রাস্তার ধারে বা বাঁধের পাশে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
 
গত এক সপ্তাহে সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ ইউনিয়নের খামারটারী ও পূর্ব কালমাটি গ্রামের প্রায় ১০-১৫টি বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনের মুখে পড়েছে চোংগাডারা উচ্চ বিদ্যালয়, খুনিয়াগাছ ইউনিয়ন পরিষদ, ভূমি অফিস, খুনিয়াগাছ উচ্চ বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনা। নদীর কিনারায় পড়েছে নির্মাণাধীন চোংগাডারা উচ্চ বিদ্যালয়ের চারতলাবিশিষ্ট ভবনসহ তিন শতাধিক বসতবাড়ি।
 
গত সপ্তাহে সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান সুজন পরিদর্শন করে পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে কিছু জিওব্যাগ ডাম্পিং করে কিছুটা রক্ষা করার চেষ্টা করেছেন। নয়তো এসব স্থাপনা বিলীন হয়ে যেত বলে দাবি করেন স্থানীয়রা।
 
সদর উপজেলার পূর্ব কালমাটি গ্রামের মৃত খোরশেদের স্ত্রী মিনু বেওয়া তিনবার নদীভাঙনের শিকার হয়ে অন্যের জমি ৩০ হাজার টাকায় বন্দক নিয়ে তিনটি ঘর করে দুই ছেলেকে নিয়ে বসবাস করছেন। ওই বসতভিটাও নদীভাঙনের মুখে পড়েছে। বন্দকি জমি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় বন্দকের ৩০ হাজার টাকাও দিচ্ছেন না জমির মালিক। টাকার অভাবে মাথা গোঁজার ঠাঁই করতে পারছেন না। স্থানীয়দের সহায়তায় ও নিকটাত্মীয় স্বজনদের দিয়ে শুক্রবার ঘর তিনটি সরিয়ে পাশের একজনের জমিতে রেখেছেন। নতুনভাবে বাড়ি করার কোনো উপায় না পেয়ে দিশাহারা মিনু বেওয়া।
 
মিনু বেওয়া বলেন, চারবার ঘর-বাড়ি সরাতে গিয়ে সহায়-সম্বল শেষ করেছি। এখন ঘর খুলে অন্যের জমিতে রেখেছি। রাতে কোথায় থাকব জানি না। এক সময় নিজের অনেক জমি ছিল। এখন দাঁড়িয়ে থাকার মতো কোনো জমি নেই। টাকা ছাড়া মেলে না জমি। সে টাকাও নেই।
 
পাশের গ্রাম খামারটারীর আছিবি, সোনাবি, আকলিমা বলেন, রাতে ঘুমাতে পারি না। কখন যে ঘর-বাড়ি নদীতে ভেঙে যায়, সে আতঙ্কে ঘুম নেই। কয়েক দিন আগে উপজেলা চেয়ারম্যান কিছু জিওব্যাগ দিয়ে কোনোরকম ভাঙনটা রক্ষা করেছেন। নয়তো এতদিনে এ গ্রাম নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেত। রিলিফ নয়, তারা দ্রুত নদী খনন করে স্থায়ী সমাধান দাবি করেন।
 
শুধু খামারটারী আর পূর্ব কালমাটি নয়, ভাঙন আতঙ্কে রয়েছেন তিস্তা নদীর বাম তীরঘেঁষা প্রতিটি গ্রামের মানুষ। এসব মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি তিস্তা নদী খনন করে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের, যাতে অনাবাদি থাকা তিস্তার বুকের হাজার হাজার বিঘা জমি চাষাবাদের আওতায় আসে। এসব জমি চাষাবাদ করে সংসার চালাবেন তারা।
 
লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, ৫টি উপজেলা নদীবেষ্টিত হলেও এবারকার তিস্তার ভাঙনটা সদর উপজেলায় কিছুটা বেশি। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ভাঙন রোধে জরুরিভিত্তিতে কাজ চলমান রয়েছে। কিছু কিছু স্থানে রোধ করা সম্ভব হয়েছে। বাকিগুলোও কয়েক দিনের মধ্যে সম্পন্ন হবে।

এমএসএম / জামান

চাচই ধানাইড় মাধ্যামিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

চট্টগ্রামে দুই সাংবাদিকের ওপর হামলায় সিআরএফ'র নিন্দা

পঞ্চগড়ে সহঃ প্রধান শিক্ষককে ফাঁসাতে গিয়ে প্রধান শিক্ষক বরখাস্ত

নাটোরের বিভিন্ন স্থানে ভোক্তা অধিকারের বিশেষ অভিযান

সাভারে সাংবাদিক সোহেল রানাকে হত্যাচেষ্টার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ

গাজীপুরে যুব উন্নয়ন আধিদপ্তরের জাতীয় শোক দিবস পালন

শান্তিগঞ্জে আ‘লীগের বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত

গলাচিপায় মুক্তিযোদ্ধা মার্কেটের উদ্বোধন

মাগুরায় জেলা আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত

পানিতে ডোবা প্রতিরোধে শান্তিগঞ্জে র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

দেবীদ্বারে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে বিক্ষোভ

হরিণাকুণ্ডুতে মাদকদ্রব্র্যের অপব্যবহার রোধকল্পে কর্মশালা অনুষ্ঠিত

রাজবাড়ীতে হাইওয়ে পুলিশের কমিউনিটি ও বিট পুলিশিং সভা অনুষ্ঠিত