সামুদ্রিক শৈবাল দিয়ে পুষ্টিকর স্যুপ উদ্ভাবন শেকৃবির গবেষকের

news paper

ফাহিম, শেকৃবি

প্রকাশিত: ২৭-৮-২০২৫ দুপুর ২:২৩

14Views

সমুদ্রের তলদেশে জন্ম নেওয়া অমূল্য সম্পদ সামুদ্রিক শৈবাল বা সি-উইড থেকে উদ্ভাবিত হয়েছে এক নতুন পুষ্টিকর ও সুস্বাদু স্যুপ। শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) ফিশারিজ ও মেরিন সায়েন্স অনুষদের অ্যাকুয়াকালচার বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও প্রাক্তন চেয়ারম্যান মীর মোহাম্মদ আলীর নেতৃত্বে গবেষক দল এ স্যুপ উদ্ভাবন করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম অনুসারে স্যুপটির নাম রাখা হয়েছে ‘এসএইউ সি-উইড স্যুপ’। ৬ মাসেরও বেশি সময় ধরে কক্সবাজার উপকূল থেকে সংগৃহীত সি-উইড নিয়ে গবেষণা চালিয়ে স্যুপটির রেসিপি ও প্রক্রিয়াজাতকরণ পদ্ধতি তৈরি করা হয়। এটি দেশের প্রথম রেডি-টু-কুক প্যাকেটজাত সি-উইড স্যুপ বলে দাবি গবেষকদের।

প্রতিটি ১২.৫ গ্রাম ওজনের প্যাকেটে ব্যবহৃত হয়েছে ২.৫ গ্রাম শৈবাল, যাতে রয়েছে প্রায় ১০ গ্রাম প্রোটিন। এছাড়া সি-উইডে প্রাকৃতিকভাবে থাকে ক্যালসিয়াম, আয়রন, ভিটামিন সি এবং আয়োডিন, যা একে ক্যালোরিমুক্ত ‘সুপার ফুড’ হিসেবে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় করে তুলেছে।

গবেষণা দলের মতে, বাংলাদেশে প্রায় ২০০ প্রজাতির সি-উইড রয়েছে, যার মধ্যে ১৪টি বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। দেশের সামুদ্রিক এলাকার মাত্র ১০% ব্যবহার করে বছরে প্রায় ৪০০ টন সি-উইড উৎপাদন সম্ভব, যার বাজারমূল্য দাঁড়াতে পারে প্রায় ৮৭৮ কোটি টাকা।

স্যুপটির বাণিজ্যিক উৎপাদনের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ‘ড্রিম ফুড’ নামক একটি খাদ্যপ্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। বর্তমানে এটি বিসিএসআইআর ল্যাবে ৬ মাসব্যাপী পরীক্ষাধীন রয়েছে। পরীক্ষার ফলাফল সন্তোষজনক হলে বাজারজাতকরণ শুরু হবে।

এছাড়াও প্যাকেটের কিউআর কোড স্ক্যান করে গ্রাহকরা স্যুপের উৎপাদন প্রক্রিয়া, পুষ্টিগুণ ও ক্যালোরি সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জানতে পারবেন—এমন একটি ডিজিটাল তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থা চালু করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

গবেষকদের মতে, এই উদ্ভাবন বাংলাদেশের পুষ্টি নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং কক্সবাজার উপকূলের জেলেদের জন্য তৈরি করবে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ।


আরও পড়ুন