ডিম-মুরগিতে নৈরাজ্য

news paper

ইউসুফ আলী বাচ্চু

প্রকাশিত: ৮-৮-২০২৩ দুপুর ৩:৩৪

144Views

নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের পুষ্টির চাহিদা মেটায় ডিম ও ব্রয়লার মুরগির মাংস। কয়েক দিনের ব্যবধানে ডিমের দাম ডজনে ৩৫ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৭০ টাকায়। এছাড়া ব্রয়লার মুরগির কেজিতে বেড়েছে ২০ টাকা। হঠাৎ দাম বেড়ে যাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা। দাম বাড়ানোর জন্য খুচরা ব্যবসায়ীদের দুষছেন পাইকাররা। 
রাজধানীর রামপুরা এলাকায় থাকেন ময়না বেগম। সোমবার তিনি ডিম কিনতে এসে হতাশ হয়ে পড়েছেন। তিনি বলেন, ১০-১২ দিন আগেও এক ডজন ডিমের দাম ছিল ১৪০ টাকা। এখন সেই ডিম কিনতে হচ্ছে ১৭৫ টাকায়। কয়েক দিনে ডিমের দাম ডজনে বেড়েছে ৩৫ টাকা। কারওয়ান বাজারে বেসরকারি চাকরিজীবী হুমায়ুন আহমেদ ডিম কিনতে গিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তিনি বলেন, বাজার নিয়ন্ত্রণে সঠিক পদক্ষেপ নেই। কয়েক দিনে ডিমের দাম হালিতে বেড়েছে ১২ থেকে ১৫ টাকা। আমরা কী করব? দেখার কেউ নেই। যে যেভাবে পারছে, ভোক্তার পকেট কাটছে। মালিবাগের ক্রেতা আব্দুর রহমান বলেন, দেশে কী এমন ঘটেছে, হঠাৎ ডিমের দামি হালিতে ১২ থেকে ১৫ টাকা বাড়াতে হলো? তিনি সিন্ডিকেটকে দায়ী করে বলেন, এদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। তারা ব্যবসার নামে ডাকাতি করছে। মানুষের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। 
যাত্রাবাড়ীতে ব্রয়লার মুরগি কিনতে আসা রোজিনা বেগম বলেন, এক সপ্তাহ আগে প্রতিকেজি ব্রয়লারের দাম ছিল ১৭০ টাকা। আজ (সোমবার) বিক্রেতা দাম চাচ্ছেন ১৯০ টাকা কেজি। এছাড়া লেয়ার, সোনালী ও দেশি মুরগির দামও কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়েছে। নারিন্দা এলাকার ক্রেতা আরমান হোসেন বলেন, আজ যে জিনিসের দাম ২ টাকা। আগামীকাল সেটা ৩ টাকা। গরিব মানুষ বাঁচবে কিভাবে?
রামপুরা বাজারে মুরগি কিনতে আসা নিলিমা বেগম বলেন, বাজারে এলে মাথা খারাপ হয়ে যায়। সব জিনিসের দাম বেশি। আমরা কী করব? এক সপ্তাহ আগে তিনি ব্রয়লার কিনেছিলেন ১৬৮ টাকা। আজ (সোমবার) সেই মুরগির দাম ১৯০ টাকা। কয়েক দিনে কেজিতে মুরগির দাম বেড়েছে ২০ থেকে ২২ টাকা।  
বিক্রেতারা বলছেন, গত মাসেও প্রতি হালি ডিমের দাম ছিল ৪৬ থেকে ৪৮ টাকা। এখন সেই ডিম বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৫৭ টাকা। আগে কখনো কোনো ডিমের দাম এত বেশি হয়নি। খামার থেকে এখন ডিম কম আসছে। ডিমের সরবরাহ কম। এ কারণে দাম বেড়েছে। কম দামে আনতে পারলে ভোক্তাদের কম দামে ডিম দিতে পারব। তবে এ বছর মূল্যবৃদ্ধির হার অস্বাভাবিক। এভাবে দাম বাড়ানো যুক্তিঙ্গত নয়। কোনো কিছুর দাম বাড়াতে হলে সুনির্দিষ্ট কারণ থাকতে হবে। মুরগির খাদ্য উৎপাদনকারীদের কারসাজিতে বাজারের এ অবস্থা বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা জানান, গুটিকয়েক পোল্ট্রি ফিড কোম্পানির কারসাজিতেই হুটহাট দাম বাড়ে-কমে। কারণ এই শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর ফিড মিলের পাশাপাশি আছে পোল্ট্রি ফার্মও। যে কারণে তারা কারসাজি করে মুরগির খাদ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়। যেন এই অসুস্থ প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে ব্যবসা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।
জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছোটবড় পোল্ট্রি খামার রয়েছে। তবে সাভারসহ রাজধানীর আশপাশের এলাকা এবং গাজীপুরের টঙ্গী, বোর্ড বাজার, জয়দেবপুরে দেশের সবচেয়ে বড় পোল্ট্রি খামার গড়ে উঠেছে। মূলত এখান থেকেই নিয়ন্ত্রিত হয় ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের বাজার। ব্যবসায়ীরা জানান, মূলত দেশের বড় পোল্ট্রি শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো সিন্ডিকেট করে ডিম ও মুরগির দাম বাড়াচ্ছে। এর মধ্যে কাজী ফিড, সিপি নারিশ, প্যারাগন, আফতাব ফিড অন্যতম বলে অভিযোগ রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, খামারিরা করোনাকাল থেকেই লোকসান দিয়ে আসছেন। এর মধ্যে কিছু সময় মুরগি-ডিমের সামান্য দাম বাড়লেও তা দিয়ে খামার টেকানো সম্ভব হয়নি। ফলে বেশির ভাগ খামার বন্ধ হয়ে গেছে। বিদেশ থেকে পোল্ট্রি ফিড তৈরির উপাদান যেমন সয়াবিন, ভুট্টা, প্রোটিন আমদানি করতে হয়। এসব পণ্যের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। কিন্তু ডিম-মুরগির দাম বাড়েনি। অথচ সে সময় দাম বাড়ানো যৌক্তিক ছিল। এখন বাজারে কিছু সময়ের জন্য মুরগি সরবরাহ কমেছে ফলে দাম বাড়া স্বাভাবিক।
প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্য বলছে, ২০১০ সালে দেশে ডিমের উৎপাদন ছিল ৬০০ কোটি; যা এখন ১ হাজার ৭৩৬ কোটি। অর্থাৎ এক দশকে উৎপাদন প্রায় তিনগুণ বেড়েছে। দেশে প্রতিদিন মুরগি, হাঁস, কবুতর ও কোয়েলের প্রায় পৌনে পাঁচ কোটি ডিম উৎপাদন হয়। পৃথক হিসাবে, কেবল মুরগির ডিম উৎপাদন হয় সাড়ে তিন থেকে চার কোটি। হাঁসের ডিমের সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী দেশের নিবন্ধিত ২৭০টি ফিড মিল তাদের উৎপাদিত খাদ্যের দাম বাড়িয়েছে। প্রতিকেজি খাদ্যে মধ্য মে থেকে আগস্ট পর্যন্ত দাম বেড়েছে ২ থেকে আড়াই টাকা। ফলে ৫০ কেজির বস্তা ১০০ থেকে ১২০ টাকা বেশি দামে কিনতে হচ্ছে খামারিদের। খামারিরা বলছেন, করোনাকালের শুরু থেকে প্রতিবস্তা পোল্ট্রি খাদ্যে ১০০০ থেকে ১২৫০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। করোনা শুরুর দিকে ১৮০০ টাকার খাদ্যের বস্তা বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৩২৫০ টাকায়।
পোল্ট্রি খামারি প্লাবন কোরায়েশী জানান, একটা পূর্ণবয়স্ক লেয়ার মুরগি দিনে ১৮০ থেকে ২২০ গ্রাম খাবার খায়। ৬টি মুরগি খায় ১ কেজি খাদ্য। আগে ১ কেজি খাবার ৫০ টাকায় পাওয়া যেত অর্থাৎ ৫০ কেজির বস্তা ২৫০০ টাকায় হয়ে যেত। একই খাদ্য এখন কিনতে হচ্ছে প্রতি কেজি ৭০ থেকে ৮০ টাকা দরে। তিনি বলেন, আগে প্রতিপিস ডিম উৎপাদনে খরচ হতো ৮ টাকা। আর বিক্রি হতো ৮ টাকা ৯০ পয়সা কিংবা ৯ টাকায়। এখন একই ডিম উৎপাদনে খরচ পড়ছে সাড়ে ৯ টাকার ওপরে। আর বিক্রি হচ্ছে ১০ টাকায়। ১ হাজার মুরগি থেকে ১ হাজার ডিম পাওয়া যায় না। ডিম পাওয়া যায় সর্বোচ্চ ৯০০টি। ৯০ শতাংশ ডিম পেলে ১ টাকা করে লাভ হয়। এখন যারা বলছেন ডিমের দাম কেন বেড়েছে তাদের কাছে প্রশ্ন- শুধু খাবার খাইয়েই মুরগি পালন সম্ভব? নাকি শ্রমিক, ঔষুধ, ভ্যাকসিন, পরিবহন আছে?
তিনি বলেন, সকল ব্যবসা এখন নিয়ন্ত্রণ করছে গ্রুপ কোম্পানিগুলো। সরকার থেকে বারবার আমরা ঋণ চেয়েও পাচ্ছি না। অথচ তারা হাজার কোটি টাকা পাচ্ছে।
আরেক খামারি আলমগীর হোসেন বলেন, ডিম দেওয়া ১ হাজার লেয়ার মুরগি পালন করতে ৮ লাখ টাকা খরচ করতে হয়। এখন আমরা দিনে ১ হাজার টাকা লাভ করছি দাম বাড়ার পর। এতগুলো টাকা বিনিয়োগ করে যদি এটুকু লাভ না আসে; তাহলে আমাদের সংসার চলবে কিভাবে? সবকিছুর দাম বাড়তি কিন্তু কিছুদিন আগেও আমরা সাড়ে ৭ টাকা দামে ডিম বিক্রি করেছি। মহাজনের কাছে ৮-১০ লাখ টাকা বাকি! তিনি আরো বলেন, গুটিকয়েক পোল্ট্রি ফিড কোম্পানির কারসাজিতেই হুটহাট দাম বাড়ে-কমে। কারণ এই শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর ফিড মিলের পাশাপাশি আছে পোল্ট্রি ফার্মও। যে কারণে তারা কারসাজি করে মুরগির খাদ্য উপাদানের দাম বাড়িয়ে দেয়। যেন এই অসুস্থ প্রতিযোগিতায় টিকতে না ব্যবসা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। 
রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আকার ভেদে ফার্মের মুরগির ডিমের ডজন পাইকারিতে বিক্রি হচ্ছে ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকা দরে। সেই হিসাবে প্রতি হালি ডিমের দাম পড়ে ৪৮ টাকা ৩৩ পয়সা থেকে ৫০ টাকা। আর সেই ডিম খুচরায় বিক্রি হচ্ছে ১৬৫ থেকে ১৭০ টাকা ডজন। আর সুপারশপগুলোতে ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৭০-১৮০ টাকায়। খুচরায় ছোট আকারের ডিমের হালি বিক্রি হচ্ছে ৫৫ টাকায়। আর একটু বড় আকারের ডিমের হালি বিক্রি হচ্ছে ৫৬ টাকা ৬৬ পয়সায়। আর সুপারশপে ডিমের হালি বিক্রি হচ্ছে ৫৭ থেকে ৬০ টাকায়। অন্যদিকে হাঁসের ডিমের ডজন পাইকারিতে ২১০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আর প্রতি হালি ৭০ টাকা। খুচরায় প্রতি ডজন ২৪০ টাকা। হালি বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়। অথচ কয়েকদিন আগেও খুচরা বাজারে মুরগির ডিমের হালি বিক্রি হয়েছে ৫০ টাকায়। আর হাঁসের ডিম প্রতি হালি বিক্রি হয়েছে ৬০ টাকায়।
রায়সাহেব বাজারের পাইকারি খুচরা ডিম বিক্রেতা রিয়াজ মিয়া বলেন, কাপ্তান বাজারের আড়ৎ থেকে ১০০টি ডিম খরচসহ ১১৮০ টাকা কেনা পড়ে। সেই ডিম আমরা পাইকারি বিক্রি করি ১২০০ থেকে ১২৫০ টাকা। সে হিসাবে প্রতি হালি ডিমের দাম পড়ে ৪৮ থেকে ৫০ টাকা। আর খুচরা বাজারে প্রতি হালির ডিমের দাম আকার ভেদে ৫৫ থেকে ৫৭ টাকা বিক্রি হয়। সেখানে আমাদের কী করার আছে? আমরা কী করবো? দাম বাড়লে বাড়াই, কমলে দাম কমাই। তবে কী কারণে দাম বড়ছে সেটা বলতে পারি না।
পাইকারি কাপ্তান বাজারের ব্যবসায়ী অগর মন্ডল বলেন, খামার থেকে এখন ডিম কম আসছে। ডিমের সরবরাহ কম। এ কারণে দাম বেড়েছে। কম দামে আনতে পারলে ভোক্তাদের কম দামে ডিম দিতে পারব। আমরা তো খামারিদের কাছ থেকে কম দামে আনতে পারছি না, মুরগির খাবারের দাম বৃদ্ধির পর যাতায়াত ভাড়া বেড়েছে। ফলে খামারিদেরও ডিম বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
পাইকারি এই ব্যবসায়ী বলেন, ফার্মের মুরগির সাদা-লাল ডিমের হালি বিক্রি করছি ৪৭ টাকা। আর ডজন বিক্রি করছি ১৪০ থেকে ১৪২ টাকায়। আর হাঁসের ডিমের হালি বিক্রি করছি ৬৫ টাকায়। ডজন ১৯৫ টাকায় বিক্রি করছি।
এসব বিষয় নিয়ে কথা হয় দেশের বৃহৎ পোল্ট্রি ফিড উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান কাজী ফিডের বিপণন বিভাগের প্রধান সালাউদ্দিন হাওলাদারের সঙ্গে। তিনি বলেন, বর্তমানে ব্রয়লার স্টার্টার ফিড ৩ হাজার ৫০০ টাকা, ব্রয়লার গ্রোয়ার ৩ হাজার ৪০০ টাকা, ব্রয়লার পুলেট ৩ হাজার ৪০০ এবং ব্রয়লার ফিনিশার ৩ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যার প্রতিটি আইটেম আগে অন্তত ৮০০ টাকা কম ছিল। সবকিছুর দাম বাড়ায় বেড়েছে ডিম-মুরগির দাম। এতে ফিড মিলাররা কিছু করতে পারবে না। কারণ সবগুলো উপাদানই দেশের বাইরে থেকে আমদানি করতে হয়।
তবে কিছু অভিযোগের বিষয়ে তিনি একমত পোষণ করে বলেন, কিছু অভিযোগ উড়িয়ে দেওয়া যায় না। পোল্ট্রি সেক্টরে মধ্যস্বত্বভোগীর দৌরাত্ম্য রয়েছে। প্রান্তিক খামারিরা আসলে কতটা নিরাপদে ব্যবসা করতে পারছেন সে বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হয়।’
অপরদিকে নারিশ ফিডের প্রধান বিপনন কর্মকর্তা সামিউল আলিম বলেন, পোল্ট্রি ফিড তৈরিতে যেসব কাঁচামাল ব্যবহার করা হয় তার দাম বাড়ছে। আর এ কারণেই পোল্ট্রি ফিডের দাম বাড়ছে। বাজারে সিন্ডিকেট করে দাম বাড়ানোর অভিযোগের বিষয় জানতে চাইলে তিনি তা এড়িয়ে যান। তিনি বলেন, আমি বর্তমানে ঢাকার বাইরে আছি, আপনি পরে যোগাযোগ করেন।
এদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরকার যেন জনগণের দিকে তাকিয়ে বাচ্চা, খাবার ও ওষুধের মূল্য নিয়ন্ত্রণ করে। তা না হলে সারা দেশের মুরগি খামারিরা একযোগে উৎপাদন বন্ধ করে দেবে। বিশ্ববাজারে কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতে ডিলার ও কোম্পানিগুলো এই শিল্প নিয়ে নোংরা খেলা শুরু করেছে। অনেকে এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে পারছেন না। কারণ, কমবেশি আমরা সবাই ঋণের মধ্যে ডুবে আছি। তাই বাধ্য হয়েই আবার উৎপাদন চালিয়ে যেতে হয়। বিদেশে কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধির কথা বলে কোম্পানিগুলো খবারের দাম বাড়াচ্ছে। ৩০০ টাকার ভ্যাকসিনের দাম হয়েছে ৬০০ টাকা। ফলে ব্যবসায়ীরা মাঠে মারা যাচ্ছেন।
প্রান্তিক পর্যায় ও বড় খামারিরা ডিম উৎপাদন করেও দাম পাচ্ছেন না। মুরগি পালনে ব্যয় বেড়েছে বহুগুণ। ডিমপাড়া মুরগির এক দিনের বাচ্চার দাম বাড়িয়েছেন হ্যাচারি মালিকরা। তারা সিন্ডিকেট করে বাচ্চার দাম বাড়িয়েছেন। বাচ্চা উৎপাদনকারী হ্যাচারি মালিকদের সিন্ডিকেট ভাঙতে হবে। আর তা না পারলে খামারির এই লোকসান ঠেকানো সম্ভব নয়। বাচ্চার দাম নাগালে থাকলে উৎপাদন খরচ কমে যায় এবং লাভবান হওয়া যায়। বাচ্চার দাম ৩০ টাকা থেকে ৫০ টাকার বেশি হলে লাভ সম্ভব নয়।
এদিকে গত মাসের তুলনায় ফের বাড়ল খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার। চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে খাদ্যে এ হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৭৬ শতাংশে; যা জুনে ছিল ৯ দশমিক ৭৩ শতাংশ। এবার গ্রামে কমলেও শহরে বেড়েছে খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার। তবে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৬৯ শতাংশে; যা জুনে ছিল ৯ দশমিক ৭৪ শতাংশ। এক মাসের ব্যবধানে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমেছে ০.০৫ শতাংশ। গত রোববার বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সিপিআই প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদনে দেখা যায়, ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে দেশের খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার। মেতে এ হার ছিল ৯ দশমিক ২৪ শতাংশ। এর আগে গত বছরের জুলাইয়ে খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৮ দশমিক ১৯ শতাংশ। তবে খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতির হার কমে জুলাইয়ে হয়েছে ৯ দশমিক ৪৭ শতাংশ; যা জুনে ছিল ৯ দশমিক ৬০ শতাংশ।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুলাইয়ে গ্রামে সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ; যা জুনে ছিল ৯ দশমিক ৮২ শতাংশ। খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতিও কমে হয়েছে ৯ দশমিক ৮২ শতাংশ; যা তার আগের মাসে ছিল ৯ দশমিক ৯৫ শতাংশ। এছাড়া খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতিও কমে হয়েছে ৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ; যা জুনে ছিল ৯ দশমিক ৫২ শতাংশ।
এদিকে জুলাইয়ে শহরে সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার কিছুটা কমে হয়েছে ৯ দশমিক ৪৩ শতাংশ; যা জুনে ছিল ৯ দশমিক ৪৫ শতাংশ। এ সময়ে খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৬৩ শতাংশে; যা জুনে ছিল ৯ দশমিক ২৬ শতাংশ। এছাড়া খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি কমে হয়েছে ৯ দশমিক ২০ শতাংশ; যা জুনে ছিল ৯ দশমিক ৪৭ শতাংশ।
এদিকে শ্রমিকের মজুরি হার বেড়েছে বলে জানিয়েছে বিবিএস। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুলাইয়ে সার্বিক মজুরি হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৫২ শতাংশ; যা জুনে ছিল ৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ এবং মেতে ছিল ৭ দশমিক ৩২ শতাংশ। এক্ষেত্রে কৃষিতে জুলাইয়ে মজুরি হার বেড়ে হয়েছে ৭ দশমিক ৭২ শতাংশ; যা জুনে ছিল ৭ দশমিক ৪৭ শতাংশ। এছাড়া শিল্প খাতে মজুরি হার কিছুটা কমে দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ৯৬ শতাংশে; যা জুনে ছিল ৭ শতাংশ। এদিকে সেবা খাতে মজুরি হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ১৪ শতাংশে; যা জুনে ছিল ৭ দশমিক ৭৬ শতাংশ। 


আরও পড়ুন