দেশিবিদেশি ষড়যন্ত্র

news paper

সিরাজুল ইসলাম

প্রকাশিত: ২৬-৬-২০২৩ দুপুর ৪:১৬

20Views

*    যুক্তরাষ্ট্রের লোলুপ দৃষ্টি সেন্টমার্টিনের ওপর
*    বিদেশি বিবৃতি আনা দেশদ্রোহিতার শামিল
*    মোসাদ-ভিপি নুরের বৈঠকও ষড়যন্ত্র  
*    রাজনীতির মাঠে বিদেশি খেলোয়াড়

দেশ যখন সব দিক থেকে এগিয়ে যাচ্ছে; তখনই দেশিবিদেশি ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। দেশের অন্যতম বড় রাজনৈতিক দল বিএনপি এবং তাদের দোসর জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এ ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। এর মধ্যে বিএনপি-জামায়াতের লক্ষ্য ক্ষমতায় যাওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য সেন্টমার্টিন দখলে নেওয়া। র‌্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া এবং নির্বাচন ইস্যুতে ভিসা নীতি ঘোষণা করা এই ষড়যন্ত্রেরই অংশ হিসেবে দেখছেন রাজনীতি বিশ্লেষকরা। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিদেশিরা প্রভাব ফেলার চেষ্টা করছে। তাদেরকে এ দেশের রাজনীতির মাঠে খেলোয়াড় মনে করা হচ্ছে।  

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সেন্টমার্টিন লিজ দিলে ক্ষমতায় থাকতে বাধা নেই। কিন্তু আমি দেশের স্বার্থ বিকিয়ে দিয়ে আমি ক্ষমতায় থাকতে চাই না। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তারা দেশের এক ইঞ্চি জমিও কাউকে দেওয়ার পক্ষে না। সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সঙ্গে ভিপি নুরুল হক নুরের বৈঠককেও ষড়যন্ত্রের অংশ মনে করা হচ্ছে। 

বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচন করে বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় যেতে পারবে- এমন নিশ্চয়তা নেই। এ কারণে তারা কোনো একটা মাধ্যম দিয়ে ক্ষমতায় যেতে চান। এ ক্ষেত্রে তারা যুক্তরাষ্ট্রের ঘাড়ে বন্দুক রেখে শিকার করতে চাচ্ছেন; অর্থাৎ ক্ষমতায় যেতে চাচ্ছেন। যদিও এটা সফল হবে না। কারণ দেশের মানুষ এখন অনেক সচেতন। তারা দেশিবিদেশি চাপিয়ে দেওয়া কোনো সিদ্ধান্ত মানবেন না। ভোটের মাধ্যমেই দলটিকে ক্ষমতায় আসতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা প্রসঙ্গে তারা বলছেন, মানবাধিকার ইস্যু নিয়ে র‌্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। তারা বাংলাদেশের গণতন্ত্র নিয়ে কথা বলছে। কিন্তু তাদের দেশের পুলিশ অহরহ মানুষকে গুলি করে হত্যা করছে। তারা কি তাদের বাহিনী বিলুপ্ত করেছে? তাদের মানবাধিকার কোথায়? তাদের দেশের নির্বাচনেও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধু রাষ্ট্র ইসরায়েল, ভারত ও পাকিস্তান। ইসরায়েলি বাহিনী প্রতিনিয়ত ফিলিস্তিনিদের গুলি করে মারছে। ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিচ্ছে। ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ বাংলাদেশিদের গুলি করে মারছে। এই দুই দেশের বাহিনীর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে না? তার মানে তারা পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে। বাংলাদেশের গণতন্ত্র পাকিস্তানের চেয়ে অনেক উন্নত। কিন্তু পাকিস্তান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র চুপ।

২১ জুন সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সেন্ট মার্টিন দ্বীপ কাউকে লিজ দিলে ক্ষমতায় থাকতে কোনো অসুবিধা নেই। কিন্তু সেটা তার দ্বারা হবে না। তিনি বলেন, এই দেশের কোনো সম্পদ কারও কাছে বিক্রি করে ক্ষমতায় আসতে চাই না। তার সদ্য সুইজারল্যান্ড ও কাতার সফর নিয়ে সরকারি বাসভবন গণভবনে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এসেছিল, কীভাবে? তখন তো গ্যাস বিক্রি করার মুচলেকা দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল। তাহলে এখন তারা দেশ বিক্রি করবে, নাকি সেন্ট মার্টিন বিক্রি করার মুচলেকা দিয়ে আসতে চায়?  কাকে লিজ দিলে ক্ষমতায় থাকতে অসুবিধা নেই, সে বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত কিছু বলেননি তিনি। প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পর ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের মুখপাত্র ব্রায়ান শিলার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এবং বাংলাদেশ শক্তিশালী এবং সহযোগিতামূলক অংশীদারিত্ব বজায় রাখে। আমরা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করি। দেশটির কোনো ভূখণ্ডের ওপর আমরা কোনোও দাবি করিনি। অবাধ, মুক্ত, উন্নত ও নিরাপদ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল নিশ্চিতে বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের অংশীদারিত্বকে আমরা মূল্য দিই এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনসহ গণতন্ত্রের প্রচারে একসঙ্গে কাজ করার মাধ্যমে আমাদের সম্পর্ককে জোরদার করার চেষ্টা করি।

এদিকে, বঙ্গোপসাগরের ওপর কৌশলগত নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে মেরিন একাডেমির নামে কার্যত মার্কিন সৈন্যদের ঘাঁটি করার কৌশল বলে মনে করেন কেউ কেউ। এই কৌশল বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্র এতদিন ধীরে চলো নীতিতে চললেও এখন খুব জোরালোভাবে অগ্রসর হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে ভিসানীতি ও নিষেধাজ্ঞা (স্যাংশন) দেওয়া হচ্ছে বলে ধারণা অনেকের।

বিষয়টি নিয়ে ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা রাশেদ খান মেনন ১৪ জুন জাতীয় সংসদে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সেন্টমার্টিন চায়, কোয়াডে বাংলাদেশকে চায়। বাংলাদেশকে তারা বাগে রাখতে এর আগে স্যাংশন দিয়েছে। এখন নির্বাচনকে উপলক্ষ্য করে নতুন ভিসানীতি ঘোষণা করেছে। এটা শুধু দুরভিসন্ধিমূলকই নয়, তাদের রেজিম চেঞ্জের কৌশলের অংশ। 

এদিকে সেন্টমার্টিন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য ভিত্তিহীন, মিথ্যা। বিএনপি কখনো দেশের স্বার্থ বিকিয়ে দেয়নি। সেন্টমার্টিন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন সেটা রাজনৈতিক কৌশল।নিজ দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কঠোর অবস্থান প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের প্রফেসর ড. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, বহুমাত্রিক পৃথিবীতে এক দেশের খবরদারি এখন আর নেই। কোনো দেশ কারো ওপর কিছু চাপিয়ে দেবে এটা কেউ চায় না।

সূত্র বলছে, ভূরাজনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেন্টমার্টিনে সামরিক ঘাঁটি করে চীন ও রাশিয়াকে টক্কর দিতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। তারা এশিয়া প্রভাব বিস্তার করতে চায়। কিন্তু সেটা হবে না। এ ইস্যুতে চাপ দিয়ে কোনো লাভ  হবে না। কেননা, কৌশলগত কারণেই চীন ও রাশিয়া বাংলাদেশের পাশে আছে। 
বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, আওয়ামী লীগ অনৈতিকভাবে ক্ষমতা ধরে রাখতে এবং আবারো একটি সাজানো, পাতানো ও ষড়যন্ত্রের নির্বাচন করতে গিয়ে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক খেলার মাঠে পরিণত করেছে। এটা ব্যাটেল ফিল্ডে পরিণত হয়ে যেতে পারে। আমাদের আশঙ্কা বাংলাদেশ এই ব্যাটেল ফিল্ডে না আবার ক্রসফায়ারে পড়ে যায়। বাংলাদেশ একটা অন্ধকারের দিকে ধাবিত হচ্ছে। তার কথা, নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন ছাড়া এই পরিস্থিতি থেকে বের হয়ে আসার আর কোনো পথ নাই। তিনি আরেক প্রশ্নে বলেন, গণতন্ত্র, নির্বাচন ও মানবাধিকারের বিষয়গুলো বিশ্বব্যাপী এবং সার্বজনীন। বিদেশিরা এগুলো নিয়ে তো কথা বলবেই। অ্যামেরিকা তো বলছেই যে তারা এই বিষয়গুলো এখন ফোকাস করছে। তারা তো নির্বাচন, গণতন্ত্র, মানবাধিকার এই বিষয়গুলো নিয়েই কথা বলছে। এর বাইরে অন্য কোনো উদ্দেশ্য তো আমরা দেখছি না। বরং প্রধানমন্ত্রী অযাচিতভাবে সেন্টমার্টিন ইস্যু টেনে এনে যে কথা বলছেন এর পক্ষে তো আমরা কোনো তথ্য প্রমাণ দেখছি না। এটা একটা অপকৌশল। 

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন মনে করেন, দেশের সাধারণ মানুষও যে বিদেশিদের কথা ও ভূমিকা নিয়ে আগ্রহ দেখাচ্ছে এটা ইতিবাচক। তারা বিদেশিদের কথা বুঝতে চায়, তথ্য চায়। জানতে চায় তারা যা বলছে তা সঠিক কী না। মানুষ সচেতন হচ্ছে। আর বাংলাদেশ ভূ-রাজনৈতিক দিক দিয়ে একটি গুরত্বপূর্ণ দেশ। এই কারণে অনেকেই বাংলাদেশকে নিয়ে কথা বলছে, ভাবছে। তার কথা, যেসব রাজনৈতিক দল দেউলিয়া তারাই বিদেশিদের কাছে যায়, ধরনা দেয়। আওয়ামী লীগ যায় না। আমরা বিদেশিদের সঙ্গে কথা বলি, ধরনা দিইনা। তিনি বলেন, পাকিস্তানে কোনো গণতন্ত্র নাই, বাংলাদেশে তো কিছুটা হলেও আছে। সেই পাকিস্তানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নতুন কোনো ভিসা নীতি নাই। বাংলাদেশের জন্য নতুন ভিসা নীতি হয়েছে। কেন, এর কারণ কী? এর জবাব খুঁজলেই আসল কারণ বোঝা যাবে। এদিকে, বাংলাদেশে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নতুন মার্কিন ভিসা নীতির পর রাজনীতিতে দেশীয় কেনো উপাদানের প্রধান্য দেখা যাচ্ছে না। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি ভিসা নীতির পক্ষে কথা বলছে। কিন্তু নতুন ভিসা নীতির পর বিএনপির আন্দোলনের তেজ বাড়ছে না। আওয়ামী লীগও কিছুটা সহনশীল। 
সাবেক রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল (অব.) শহীদুল হকও মনে করেন এখন বাংলাদেশের রাজনীতি ও আগামী নির্বাচন নিয়ে বিদেশি বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়েই কথা হচ্ছে বেশি। তিনি বলেন, বাইডেন প্রশাসন গণতন্ত্র এবং মানবাধিকার নিয়ে তাদের অবস্থান বার বার স্পষ্ট করছে। বাংলাদেশে তারা সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দেখতে চায়। এজন্য তারা সক্রিয় আছে। কিন্তু এর ভিতরে তাদের কোনো হিডেন এজেন্ডা থাকতে পারে। তবে সেটা কী আমি জানি না। কারণ গণতন্ত্র ও মানবাধিকার নিয়ে অনেক দেশেই সমস্যা আছে। যুক্তরাষ্ট্র কি বাংলাদেশকে ব্যতিক্রম হিসেবে নিচ্ছে? নিলে সেটা কেন?
তিনি বলেন, বাংলাদেশের ব্যাপারে ভারতের ভূমিকা সবার জানা। আর চীন হচ্ছে তার ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান থেকে কথা বলে। ইউরোপ এবং যুক্তরাজ্যের কথায় মার্কিন নীতির প্রতিফলন আছে। তারাও বাংলাদেশে সুষ্ঠু নির্বাচন চায়। 

তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষ একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চায়। দেশের সরকার, রাজনৈতিক দল সেই প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হচ্ছে। তাই স্বাভাবিক কারণেই মানুষ বিদেশিদের তৎপরতা নিয়ে আগ্রহী। আর রাজনৈতিক দলগুলো ক্ষমতা ধরে রাখা এবং ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য বিদেশিদের সঙ্গে সব সময়ই যোগাযোগ রাখে- যা লাজ্জার। নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) আব্দুর রশিদ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যার বন্ধু; তার তো শত্রু দরকার নেই। তারা ছোট দেশগুলোর ওপর নানাভাবে প্রভাব বিস্তার করতে চায়। আগে তারা সামরিক অভিযান চালাতো। এখন সেই অবস্থা নেই। তারা এখন কূটনীতিক আগ্রাসন চালাচ্ছেন। তিনি বলেন, ভূরাজনীতিক দিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে পরাশক্তিগুলো বাংলাদেশকে কাছে টানার চেষ্টা করছে। তবে বাংলাদেশকে সাবধানে পা ফেলতে হবে। কারণ কোনো কারণে যেন বাংলাদেশ পাটা-পুতার মরিচ না হয়। এক প্রশ্নে তিনি বলেন, চীন ও রাশিয়া আমাদের বন্ধু রাষ্ট্র। স্বাভাবিক কারণে তারা আমাদের পাশে থাকবে। বিচলিত হওয়ার কিছু নেই। তবে সাবধানে আগাতে হবে। বিএনপির ভূমিকা সম্পর্কে এই বিশ্লেষক বলেন, অতীতে তারা ইন্টারভেনশনে (সামরিক অভ্যুত্থান) ক্ষমতায় এসেছিল। তারা নির্বাচন করে ভোটে ক্ষমতায় আসতে পারবে- এমন নিশ্চয়তা নেই। এ কারণে তারা ভিন্ন পথ বেছে নিচ্ছে। তারা যদি বিদেশি শক্তি ব্যবহার করে ক্ষমতায় যাওয়ার চেষ্টা করে; সেটা হবে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। তিনি বলেন, ভোটের মাধ্যমেই তাদের ক্ষমতায় আসতে হবে। অন্য কোনোও উপায় নেই।  

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক শেখ হাফিজুর রহমান কার্জন বলেন, বাংলাদেশের গুরুত্ব বেড়েছে। এর ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব বেড়েছে। ফলে অনেক দেশেরই বাংলাদেশ নিয়ে আগ্রহ আছে। তাই তারা কথা বলেন। কথা বলেন বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও মানবাধিকার নিয়ে। আবার বাংলাদেশে বিভিন্ন সময় যারা ক্ষমতায় ছিলেন তারা দেশের জনগণকে গুরুত্ব দেননি। ফলে এখন সেটা হচ্ছে বিদেশিরা কথা বলছেন, দেশের মানুষ শুনছেন। রাজনৈতিক দলগুলোও বিদেশমুখী হচ্ছে। তাদের কাছে সাধারণ মানুষ গুরুত্ব না পাওয়ায় ও তাদের প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ায় এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।  তিনি বলেন, দেশের সাধারণ মানুষেরও যতটা তৎপর বা প্রতিবাদী হওয়া প্রয়োজন ততটা হচ্ছে না। তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেই কথা বলছে কেউ কেউ। ফলে সব দিকেই একটা প্রবণতা বাইরে থেকে কেউ কিছু একটা করে দেবেন। 

তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা ও লবিস্ট নিয়োগ করে বিবৃতি আনা এগুলো দেশবিরোধী অপতৎপরতা। এগুলো দেশদ্রোহিতার শামিল। যারা এই বিবৃতি নিয়ে কাজ করছে, তারা দেশদ্রোহিতার মতো কাজ করছে। এ ব্যাপারে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। রোববার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নসরুল হামিদ মিলনায়তনে গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের সহযোগিতায় গণমাধ্যম উন্নয়ন সংগঠন সমষ্টি পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, আমাদের দেশ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দক্ষতার সঙ্গে কাজ করছে। দেশ থেকে সৈন্য পাঠানোর ক্ষেত্রে পুলিশ, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনীর সদস্যরা যায়। কোস্ট গার্ড থেকেও যায়। বিষয়টি নিয়েও একটি ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। সেই কারণে গত কয়েক দিনে কিছু পেশাদার ‘বিবৃতি সংগঠন’ বিবৃতি দিয়েছে। যারা আমাদের মুক্তিযুদ্ধে পরাজিতদের বিচার বন্ধ করার জন্য বিবৃতি দিয়েছিল। আমাদের ব্যতীত ১৪-১৫ সালে মানুষ পোড়ানোর মহোৎসব যখন চলছিল, তখন তারা বিবৃতি দেয়নি। ফিলিস্তিনে যখন পাখি শিকার করার মতো মানুষ শিকার করা হয়, ফিলিস্তিনি শিশুরা যখন ইসরাইলি বাহিনীর প্রতি ঢিল ছুঁড়ে, সেটির জবাবে ব্রাশ ফায়ার করা হয়, তারা এসবের বিরুদ্ধে বিবৃতি দেয়নি। তারা আমাদের স্পিক মিশন নিয়ে বিবৃতি দিয়েছে। বিষয়টির সঙ্গে একটি গভীর ষড়যন্ত্র যুক্ত।


আরও পড়ুন