তালায় দৃষ্টিনন্দন খেজুর গাছে ঝুলছে শিশু-কিশোরদের স্বপ্ন

news paper

এম,এম হায়দার আলী, তালা

প্রকাশিত: ২৬-৫-২০২৩ দুপুর ২:৫

109Views

মানবজাতির কল্যাণে প্রকৃতির সৃষ্টি। অসংখ্য বৃক্ষরাজির মধ্যে খেজুর গাছ একটি অতি প্রয়োজনীয় পরিচিত বৃক্ষ। মানব দেহের গুনাগুন সমৃদ্ধ যে বৃক্ষ জৈষ্টের মধু মাসে নিজেকে জানান দিতে সেজেছে নতুন রূপে। যারই ফলশ্রুতিতে সাতক্ষীরার তালায় রাস্তার ধারে,জমির আইলে,খাল-বিল পাড়ে এবং বাড়ির আনাচে-কানাচে চোখে পড়ছে কাঁচা-পাকা লাল হলুদ দেশী খেজুর। সুত্রমতে,প্রকৃতির নিয়ম অনুযায়ী মানুষ বছরে দুই বার অর্থাৎ শীতকালে মিষ্টি সুস্বাদু রস। আর গরম কালে দৃষ্টি নন্দন খেজুর ফলের মিষ্টি স্বাদ  গ্রহণ করে থাকেন। এক সময় প্রায় সকলেই বয়স্ক পাকা গাছ কাজে লাগাতেন বিভিন্ন ঘর তৈরীর কাজে। গ্রামীণ জনপদের গৃহবধূরা পাতা দ্বারা তৈরি করে থাকে পাটি-চাটাই। এক সময় যেটা ঘুমানো-বসা বা ধান শুকানোর কাজে ব্যবহৃত হতো।তবে বর্তমানে আধুনিকতার ছোঁয়াই  সেই পাটি চাটাই হারিয়ে গিয়ে যা এখন শুধুই স্মৃতি। খেজুর মূলত শুষ্ক ও মরু অঞ্চলের উদ্ভিদ হওয়ায় গাছে যথেষ্ট শাঁসযুক্ত উৎকৃষ্ট মানের খেজুর হয় না। তাই এটি খাদ্য হিসেবে খুব একটা ব্যবহার হয় না। তবে এই গাছের রস আকর্ষণীয় ও সু-মিষ্ট।
দেশি খেজুরকে কেউ কেউ বুনো বা জংলি খেজুর নামে ডাকেন। কারন এটা কেউ বাণিজ্যিক ভিত্তিতে চাষ করে না,জঙ্গলের গাছ। দেশি খেজুর এ দেশের একটি অন্যতম প্রাচীন ফল। এ দেশেই উৎপত্তি, এ দেশেই বিস্তার। চৈত্র মাসে ফুল ফোটে। কাঁদিতে পুরুষ ও স্ত্রী ফুল ফোটে। পুরুষ ফুল সাদা ক্ষুদ্রাকার। ফল হয় গ্রীষ্মকালে। ফল প্রায় ডিম্বাকৃতি, হলুদ রঙের, লম্বায় প্রায় ২.৫ সেন্টিমিটার। ভেতরে হালকা বাদামি রঙের একটি বীজ থাকে। বীজের ওপরে পাতলা আবরণের মতো শাঁস থাকে। কাঁচা শাঁস কইষট্যা-নোনতা। কিন্তু পাকলে তা বেশ মিষ্টি হয়। পাকা খেজুরের রঙ লালচে বাদামি থেকে খয়েরি হয়। বীজ দিয়েই খেজুরের বংশবৃদ্ধি হয়।
দেশি খেজুরকে চিনি বা গুড় উৎপাদনকারী ফসল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। খেজুর গাছের প্রধান ব্যবহার বৈশিষ্ট্য হিসেবে রস ও গুড় পাটালী উৎপাদন করা হয়ে থাকে। যে রস গুড় শীতকালে হরেক রকম পিঠা তৈরির ক্ষেত্রে  অপরিসীম গুরুত্ব বহন করে চলেছে। তবে এর ফলও খাওয়া যায়। দেশি খেজুুরের ফল  ছোট আকৃতির  হওয়ায় তা ফল হিসেবে অনেকেই মানতে চায় না। দেশি খেজুরের ফলের শাঁস পাতলা, বিচি বড়, পাকা ফলের সংরক্ষণ ক্ষমতা খুবই কম। তবু পাকা ফলের সুমিষ্ট গন্ধ ও মিষ্টি স্বাদ অনেকরই আকৃষ্ট করে।পাকা খেজুর গ্রাম বাংলার শিশুদের কাছে খুব প্রিয়।
সরল গোলাকার কান্ড বিশিষ্ট, শাখা প্রশাখা বিহীন, একবীজ পত্রী উদ্ভিদ খেজুর গাছ। গাছ সাধারণত ৪-১৫ মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়। রসের জন্য প্রতিবছর কাটা হয়ে বলে গাছগুলো বিশেষ আকৃতি ধারণ করে। গাছের মাথা একগুচ্ছ বড় লম্বাটে পাতা দ্বারা সজ্জিত। প্রতিটি পাতার বোঁটার দুই প্রান্তে লম্বা লম্বা কাঁটা থাকে। পাতার অগ্রভাগ সুচালো। ফল সাধারণত বীজ প্রধান। বীজের উপর পাতলা আবরণের মতো শাঁস থাকে। কাঁচা খেজুর ‘কইস্ট্যা’ লাগলেও পাকা খেজুর বেশ মিষ্টি। 
সারা দেশেই কম বেশি খেজুর গাছ দেখতে পাওয়া যায়। তবে ফরিদপুর, যশোর, খুলনা, কুষ্টিয়া, রাজশাহী ও নাটোর অঞ্চলে এ গাছের আধিক্য দেখা যায়। দেশে যে খেজুর গাছ দেখতে পাওয়া যায় তার ফল গ্রামীণ জনপদে বেশ জনপ্রিয়। উপজেলার যুগীপুকুরিয়া গ্রামের রহমত আলী সানা (৬৫) জানান,গাছির অভাবে খেজুর গাছ থেকে রস আহরণ করা যাচ্ছে না। এ কারণে প্রতি বছর শত শত খেজুর গাছ কেটে ফেলছে। বর্তমানে বড় গাছের সংখ্যা কম। তবে কয়েক বছর আগেও এই এলাকায় অসংখ্য খেজুর গাছ ছিল। এদিকে তালার বিভিন্ন স্থানে খেজুর গাছে থোকায় থোকায় ঝুলছে খেজুর। অনেক খেজুরে রঙ ধরেছে। তা দেখে প্রতিটি মানুষের চোখ ধাঁধিয়ে যাচ্ছে। খেজুর পাকতে শুরু করেছে। আর ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে সব খেজুর পেকে যাবে। সড়কের পাশে খেজুর গাছের খেজুরগুলো স্থানীয় ছোট ছেলে-মেয়েরা পেড়ে খেতেও শুরু করেছে। অনেকেই পাকা খেজুর বাজারে বিক্রি করছে। তবে মৌসুমী ফলের ভিড়ে দেশী খেজুরের কদর খুবই কম বাজারে। খেজুর গাছ দুরারোগ্য প্রতিরোধী উদ্ভিদ, প্রতিকূল পরিবেশেও এটি টিকে থাকতে পারে।  পাকা খেজুর দোয়েল, বুলবুলি, শালিক পাখিসহ অন্যান্য পাখিদের খুব প্রিয়। পিঁপড়া ও মৌমাছিরাও এ পাকা খেজুরের স্বাধ নিতে দেখা যায়। তবে সময়ের ব্যবধানে সাংসারিক জীবনে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় খেজুর গাছ আইস প্রাই বিলুপ্তির পথে।

আরও পড়ুন