দুর্গাপুরে বোরো মৌসুমে লোডশেডিংয়ে দিশেহারা কৃষক

news paper

আল নোমান শান্ত, দুর্গাপুর

প্রকাশিত: ২৫-১-২০২৩ দুপুর ১২:৫৭

21Views

নেত্রকোণার দুর্গাপুর উপজেলায় বোরো মৌসুমে বিদ্যুতের অভাবে সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। গড়ে পাঁচ ঘণ্টা করেও বিদ্যুৎ পাচ্ছেন না তারা। এতে বোরো আবাদে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন চাষীরা।উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে বিভিন্ন জাতের ইরি-বোরো ধান চাষের লক্ষ্য মাত্রা ১৭ হাজার ২শ ৫০ হেক্টর।

এ উপজেলার কৃষকরা জানান, দিন-রাতে ৪ ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না পাওয়ায় কৃষকেরা বোরো জমিতে সেচ দিতে পারছেন না। বিদ্যুৎ পাওয়ার অপেক্ষায় সারাদিন জমিতে বসে থাকতে হচ্ছে। এভাবে চললে বোরো ধান ঘরে তুলতে পারবেন কি না,এ নিয়ে তারা শঙ্কিত।কৃষক আব্দুল গনি বলেন,লোডশেডিংয়ের কারণে গ্রামের সব কৃষক বোরো আবাদ নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন। রাতে অল্প বিদ্যুৎ থাকলেও দিনের বেলায় থাকে না বললেই চলে। যেটুকু সময় পায় কে আগে কার জমিতে পানি দিবে তা নিয়ে ঝামেলা লেগে যায়। গত চার দিনে আমার পাঁচ কাটা জমি ভেঁজাতে পারেনি। 

কৃষক আব্দুল হান্নান বলেন,আমরা কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করি। আমাদের অন্য কোনো কাজ নেই। এখন বিদ্যুৎ এর অভাবে সেচ দিতে পারছি না। চাষাবাদ না করতে পারলে পরিবার নিয়ে কষ্টে পড়তে হবে। বেশি সময় বিদ্যুৎ পেলে আমরা এ কষ্ট থেকে রক্ষা পেতাম।উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান বলেন, এবার বিভিন্ন জাতের ইরি-বোরা ধান চাষের লক্ষ্য মাত্রা ১৭ হাজার ২শ ৫০ হেক্টর। এ পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজার হেক্টরের মতো রোপন করা হয়েছে। তবে বিদ্যুতের অভাবে সেচ না দিতে পেরে কৃষকেরা চিন্তিত। রাত ১১টা থেকে ভোর ৫ টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ রাখবেন বলে জানিয়েছিলেন কিন্তু স্বাভাবিক বিদ্যুৎ না পেয়ে গতকালও অনেকজন কৃষক আসছিলো আমাদের কাছে।

দুর্গাপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মোহাম্মদ দিলওয়ার হোসেন জানান,আমরা যতটুকু বিদ্যুৎ সরবরাহ পেয়ে থাকি তার চেয়ে বেশি বিদ্যুৎ বিতরন করা সম্ভব হয়না। চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ না পেয়েই আমাদের লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। চাহিদার তিন ভাগের এক ভাগ দিতে পারছি আমরা। যেটুকু আমাকে বরাদ্দ দেওয়া হয় শেষ হয়ে গেলে লাইন বন্ধ হয়ে যায়। চলতি বোরোর মৌসুমে রাতে ৬ ঘন্টা বিদ্যুৎ পাচ্ছেন কৃষকরা। আমরা দেওয়ার চেষ্টা করি তবে চাহিদার তুলনায় কম পাওয়ায় দিতে পারছি না। বোরো মৌসুমে অস্বিভাবিক লোড শেডিং এর বিষয়ে আমরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিনিয়ত জানাচ্ছি।


আরও পড়ুন