শালিখায় কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে ছান্দড়া জমিদার বাড়ি

news paper

সাইফুল ইসলাম, শালিখা

প্রকাশিত: ১৯-৯-২০২২ দুপুর ১:৩৬

63Views

মাগুরার শালিখা উপজেলার সীমাখালী বাজার থেকে তিন কিলোমিটার এগিয়ে গেলেই ছান্দড়া গ্রামের জমিদার বাড়িটির দেখা মিলবে। বাড়িটির ধ্বংসাবশেষ এখনো টিকে আছে কালের সাক্ষী হয়ে। মুঘল আমলের প্রথমার্ধে বাড়িটি নির্মাণ করেন জমিদার অলঙ্গন মোহন দেব রায়।

এই অঞ্চলের মধ্যে ছান্দড়ার জমিদার অত্যন্ত প্রতাপশালী ছিলেন। এ বাড়ি থেকে এলাকার কর-খাজনা আদায় ও শাসনকাজ পরিচালনা করতেন। এসবই আজ ইতিহাস। কালের বিবর্তনে সবকিছু হয়ে গেছে অতীত। ভেঙে পড়ছে জমিদার বাড়িটি, ইটে ধরেছে লোনা। জানালা দরজা হয়ে গেছে উধাও। কিন্তু জমিদারের জমিদারি না থাকলেও টিকে আছে বাড়িটির ধ্বংসাবশেষ। এছাড়াও টিকে আছে জমিদারের নির্মিত শান বাঁধানো পুকুরঘাট, কালীমন্দির ও শতবর্ষী আম গাছ। জমিদারের ব্যবহৃত হাতীশালা ও পুকুর ভরা ব্যাঙ কোনোকিছুই নেই।

এছাড়াও এই জমিদারের বাড়ির পাশে ভারতের সাবেক ক্রিকেটার ও জি বাংলা টেলিভিশনের দাদাগিরি অনুষ্ঠানের উপস্থাপক যাকে কলকাতার রাজপুত্র বলা হয় সৌরভ গাঙ্গুলির পূর্বপুরুষের বাড়ি ছিল বলে জানা যায়। জমিদার বাড়ির পাশে ছিল গাঙ্গুলিদের বাড়ি। কিন্তু তাদের অস্তিত্বের কিছু না থাকলেও কালের সাক্ষী হয়ে আছে এই জমিদার বাড়ি ও পাশের সেই বেগবতী নদী।

ছান্দড়া গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি স্বপন মুখার্জির সাথে কথা বললে তিনি জানান, অলঙ্গন মোহন দেব রায় এই এলাকার প্রভাবশালী জমিদার ছিলেন। এই বাড়ি থেকে এলাকার কর-খাজনা আদায় ও শাসনকার্য পরিচালনা করা হতো। কালের সাক্ষী হয়ে এখন শুধু টিকে আছে বাড়িটির ধ্বংসাবশেষ। এই জমিদার বাড়ির পাশে গাঙ্গুলিয়াদের বাড়ি ছিল। পরবর্তীতে তারা কলকাতায় চলে যায়। তবুও প্রতিদিন ভ্রমণ-পিপাসুরা জমিদার বাড়িটি দেখতে আসেন। বাড়িটির অস্তিত্ব রক্ষা করতে পারলে এটি এলাকার পর্যটন কেন্দ্র হতে পারে।

অনেকেই মনে করেন, উপযুক্ত সংরক্ষণের উদ্যোগ না নেয়া হলে অচিরেই ঐতিহাসিক নিদর্শনটি বিলুপ্ত হয়ে যাবে।


আরও পড়ুন