ঢাকা শনিবার, ২১ মে, ২০২২

জালিয়াতি করে নিয়োগ পেয়েও বহালতবিয়তে চমেক হাসপাতালের তাকবীর


চট্টগ্রাম ব্যুরো photo চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশিত: ১৪-৫-২০২২ দুপুর ৩:১৪

সরকারি বিধি অনুযায়ী চাকরি প্রার্থীর বয়স ৩০ পেরিয়ে গেলে আবেদনের অযোগ্য হিসেবে গণ্য হবে। অথচ তাকবীর হোসেন নামের একজনকে চাকরির বয়সসীমা ১০ মাস ১৭দিন পেরিয়ে যাওয়ার পরও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।  দুদক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ ক্ষেত্রে চাকরির নিয়োগবিধি সম্পূর্ণ লঙ্ঘন করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত চলছে। 
টিআইবি চট্টগ্রামের দায়িত্বশীলরা বলেছেন, বিষয়টি সুশাসনের পরিপন্থী। তদন্ত করে তড়িৎ ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
তাকবীর হোসেন বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংকে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদে কর্মরত। এরআগে নিয়োগ পরীক্ষায় মো.তাকবীরকে খাতা কাটাকাটি করে অতিরিক্ত নম্বর পাইয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠে। পরে দুদকের তদন্তের পর তাকবীরসহ ২২জনের বিরুদ্ধে মামলার সুপারিশ করা হয়।
জানা গেছে,  তাকবীর হোসেন  চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ   হাসপাতালের (চমেক) নারী নির্যাতন প্রতিরোধকল্পে মাল্টিসেক্টরাল প্রোগ্রাম নামের একটি প্রকল্পে কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে কাজ করতেন। মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) দ্বারা প্রকল্পটির কার্যক্রম পরিচালিত হয়। ওই এনজিও কার্যক্রমকে সরকারি চাকরি দেখিয়ে বিভাগীয় প্রার্থী হিসেবে চমেক হাসপাতালে চাকরির জন্য আবেদন করেন তাকবীর হোসেন। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির ০১ (এক) এর (ঙ) এবং ০৫ (পাঁচ) নং শর্তাবলী মোতাবেক ১৮-০৮-২০১১ ইংরেজি  তারিখে তাকবীর হোসেনের বয়স (১৮/০৮/২০১১ - ০১/১০/১৯৮০) ৩০ বছর ১০ মাস ১৭ দিন। অর্থাৎ চাকরির আবেদন ঘোষণার তারিখ পর্যন্ত তার বয়স ১০ মাস ১৭ দিন বেশী।

চমেক হাসপাতালের স্মারক নং-চমেকহা/শাখা-১/নিয়োগ -২০২১/৩১৯৫, তারিখ ৭/৭/২০১১ অনুযায়ী নিযোগ বিজ্ঞপ্তির ৯ নং শর্ত অনুযায়ী সরকারি চাকরিরত প্রার্থীদের বিধিমতে বয়স শিথিলযোগ্য উল্লেখ থাকলেও তাকবীর হোসেন এনজিওর প্রকল্পের অধীনে কর্মরত ছিলেন। তার প্রথম সরকারি চাকরিতে যোগদানের তারিখ ছিল ২৮/১২/২০১১ ইং। সেহেতু বিভাগীয় প্রার্থী হিসেবে তার আবেদন করার সুযোগ নেই।
অভিযোগ রয়েছে, সরকারি চাকরিতে যোগ দেওয়ার বয়সসীমা পার হলেও বিভাগীয় প্রার্থী দেখিয়ে তাকবীর হোসেনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে চমেক হাসপাতালের পরিচালকের কার্যালয়ের কাগজপত্র জাল জালিয়াতির অভিযোগ ওঠে। ২০১১ সালের ৮ আগষ্ট  (স্মারক নং-চমেকহা/ডিএনএ/২০১১/২২) চমেক হাসপাতালের পরিচালকের প্যাড ব্যবহার করে তাকবীর হোসেনকে বিভাগীয় প্রার্থী হিসেবে প্রত্যয়নপত্র দেন তাকবীরের আপন বড় ভাই ডা. মো.আবুল হোসেন। তবে ওই ভুয়া প্রত্যয়নপত্রে চমেক হাসপাতালের পরিচালকের কোনো স্বাক্ষর ছিল না। ডা. আবুল হোসেন বর্তমানে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে সংযুক্তিতে কর্মরত।
অভিযোগ রয়েছে, বড় ভাইয়ের তৈরি করা জাল জালিয়াতির মাধ্যমে তাকবীর হোসেন এই চাকরি বাগিয়ে নেন। তৃতীয় শ্রেণির চাকরি পেয়েই নানা তদবিরের মাধ্যমে তিনি হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংকে যোগ দেন। এর পরই চমেক হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংক থেকে বেসরকারি ব্লাড ব্যাংকে রক্ত পাচারের অভিযোগ উঠতে থাকে। এ নিয়ে নানা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দুদক তাকবীর হোসেনের বয়স জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগসহ ব্লাড ব্যাংকের রক্ত পাচারের বিষয়টি তদন্ত করে চমেক হাসপাতালের পরিচালককে প্রতিবেদন দেয়। সদ্য চাকরিচ্যুত দুদকের উপসহকারী পরিচালক মো. শরিফ উদ্দীন এই তদন্ত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তাকবীরকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। শরিফ উদ্দীনের বদলির পরবর্তী ১১ মাসে এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

 ব্লাড ব্যাংক থেকে প্রাইভেট ব্লাড ব্যাংকে রক্ত পাচারের অভিযোগে এক বছর আগে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপতালের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক তাকবীর হোসেনকে ব্লাড ব্যাংক থেকে প্রশাসনিক ব্লকে সরিয়ে দেয় কর্তৃপক্ষ। কিন্তু পরিচালকের বদলির সুযোগ নিয়ে গত জানুয়ারিতে পুনরায় ব্লাড ব্যাংকে ফিরে আসেন তিনি।
তাকবীর হোসেন পুনরায় ব্লাড ব্যাংকে ফিরে আসায় এই শাখায় নতুন করে অনিয়মের অভিযোগও ওঠা শুরু হয়েছে।
চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, তাকবীর হোসেনের নেতৃত্বে রক্ত পাচারের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট রয়েছে চমেক হাসপাতালে। গত ২৫ নভেম্বর তাকবীর হোসেনকে
দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) চট্টগ্রাম সমন্বিত কার্যালয়ে  ডেকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছে। 
বর্তমানে সংবেদনশীল এই বিভাগের ভাবমূর্তি নিয়ে সেখানকার অন্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা শঙ্কায় আছেন বলে জানান। 
এব্যপারে জানতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপতালের ব্লাড ব্যাংকের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক তাকবীর হোসেনকে একাধিকবার কল ও বার্তা দিয়ে মোবাইলে সংযোগ পাওয়া যায়নি।
এব্যপারে চট্টগ্রাম স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতি তদন্ত টিমের প্রধান ও দুদক চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্য়ালয়ের উপ-পরিচালক মো. আতিকুল আলম অফিসে গিয়ে কথা বলার অনুরোধ জানান।
তাকবীরের অনিয়মের ব্যপারে কি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে জানতে বদলী ও পদায়ন কমিটির সভাপতি, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের  অতিরিক্ত পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যক্ষ ডাঃ আহমেদুল কবিরের মোবাইলে কল ও বার্তা দিয়েও কথা বলা সম্ভব হয়নি। 

এমএসএম / এমএসএম

তানোরে হেরোইন ও ইয়াবাসহ স্বামী স্ত্রীসহ ৪ জন গ্রেপ্তার

তানোরে পাকা রাস্তা নষ্ট করে মাটি বাণিজ্যে

ভোলায় কালবৈশাখী ঝড়ে বালুবোঝাই বাল্কহেড ডুবি

ধামরাইয়ে মারামারি থামাতে এসে যুবকের মৃত্যু

উলিপুরে বাদামের বাম্পার ফলন তিস্তা নদীর গর্ভে

৫ ঘণ্টা পর খুলনার সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক

বন্যায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী, পৌঁছেনি ত্রাণ

গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রাণ গেল পুলিশ সদস্যের, আহত ৭

সিলেটে কমতে শুরু করেছে বন্যার পানি

কালবৈশাখীর তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড কুষ্টিয়া

খুলনার সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ

ট্রেনের টিকিট কালোবাজারিতে জিডির জের ধরে খুলনার ৪ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বদলি

চাটখিলে রঙ্গের কন্টিনার ভর্তি পানিতে পড়ে শিশুর মৃত্যু